গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক বরখাস্তকৃত বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শিগগিরই অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপপরিচালক মো. মোনায়েম হোসেন মামলাটি দায়ের করবেন।
গতকাল সোমবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, সোহেল রানার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দাখিল করেন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা। তার সুপারিশের আলোকে সোহেল রানার বিরুদ্ধে কমিশন মামলা করার অনুমতি দেয়।
অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়, বনানী থানার তৎকালীন পরিদর্শক সোহেল রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ই-অরেঞ্জ গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ, বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য কমিশন সিদ্ধান্ত নেয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, সোহেল রানা নিজ নামে ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে পরিচালিত ৬টি ব্যাংকের ৩১ হিসাবে ২৮ কোটি ৪৯ লাখ ৩৭ হাজার ৬৫০ টাকা ৪০ পয়সা জমা করেন। পরে সেখান থেকে ২৮ কোটি ৪৬ লাখ ৭২ হাজার ৯১৩ টাকা ৮০ পয়সা উত্তোলন করেন।
গত ১৬ মার্চ সোহেল রানার অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
দুদক সূত্র জানায়, কমিশনের অনুসন্ধানে ঢাকায় সোহেল রানার চারটি ফ্ল্যাট, ৯ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাণিজ্যিক ভবন, বেশ কিছু জমির প্লটের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও অভিজাত ক্লাবের সদস্য পদ, চারটি ভিন্ন দেশে সম্পত্তি ও শত শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে তার। চারটি ফ্ল্যাটের মধ্যে দুটি রাজধানীর নিকেতনে।
সোহেল রানার মালিকানাধীন টিঅ্যান্ডজি নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি শাখা গুলশানের ডিসিসি মার্কেটে, আরেকটি রয়েছে উত্তরার গরিব-ই-নেওয়াজ অ্যাভিনিউতে। পূর্বাচলের সেক্টর ৩-এ একটি প্লট, কুড়িল বিশ্বরোড লাগোয়া একটি আবাসিক এলাকার ই ও আই ব্লকে দুটি প্লট এবং খাগড়াছড়িতে রিসোর্টের জন্য জমি কিনেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাথায় নিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহারের চ্যাংড়াবান্ধায় ওই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে ধরা পড়েন। ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২১ সালের ১৭ আগস্ট প্রতারণার শিকার গ্রাহক মো. তাহেরুল ইসলাম ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় সোহেল রানাও আসামি।