জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক মো. নকিবুল হাসান খানকে বিজ্ঞপ্তির নিয়ম ভেঙে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির কাছে তদন্তসহ প্রতিবেদন চেয়েছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
গত ৪ জুলাই দেশ রূপান্তরে ‘সব নিয়ম পায়ে মাড়িয়ে শিক্ষক তিনি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে উঠে এসেছিল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য।
যেখানে শিক্ষক পদে আবেদন করতে হলে এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে ফল থাকতে হবে জিপিএ ৪.০০ (৫.০০ স্কেলে)। একই সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে থাকতে হবে সিজিপিএ ৩.৫০ (৪.০০ স্কেলে)। তবে বিশেষ যোগ্যতা (পিএইচডি, স্বীকৃত দেশি-বিদেশি অ্যাওয়ার্ড বা আন্তর্জাতিকমানের জার্নালে প্রথম অথর হিসেবে প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধ) থাকলে যেকোনো একটি শর্ত শিথিল করা যাবে। এ ছাড়া পুরো শিক্ষাজীবনে তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু উল্লিখিত শর্ত ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন মো. নকিবুল হাসান খান।
জিপিএ ৫.০০ স্কেলে চতুর্থ বিষয় ছাড়া ৩.২০ পেয়ে পাস করা নকিবুল হাসান ভেঙেছেন প্রায় প্রত্যেকটি শর্ত।
প্রকাশিত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউজিসির নজরে এসেছে জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির কাছে চিঠি লিখেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। চিঠিটি চলতি মাসের ১৭ জুলাই ইস্যু করা হয়েছে। যার স্মারক নম্বর ৩৭.০১.০০০০.১৫১.৩২.০০৭.২০.৯৫।
ইউজিসি পরিচালক (পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগ) মোহাম্মদ জামিনুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক/প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞাপনের শর্ত ভঙ্গ করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক পদে মো. নকিবুল হাসান খানকে নিয়োগ দেওয়াসহ চাকরিতে রাখার বিষয়টি দৈনিক পত্রিকায় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের দৃষ্টিতে এসেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক বিস্তারিত কাগজপত্র ও প্রতিবেদনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতামত দ্রুততম সময়ের মধ্যে কমিশনে প্রেরণের জন্যে আদিষ্ট হয়ে অনুরোধ জানানো হলো।’
ইউজিসির এমন চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা।
বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর ইউজিসির চিঠি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ইউজিসির চিঠির বিষয়ে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দ্রুতই একজন সিন্ডিকেট সদস্যকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করে সেখান থেকে পাওয়া প্রতিবেদন ইউজিসিতে পাঠানো হবে। আমি অনিয়ম দুর্নীতির প্রশ্নে আপসহীন। পক্ষপাতহীন তদন্ত রিপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রেরণ করবে। আমার সময়ে কোনো অনিয়ম দুর্নীতি করা হবে না। আর আগের কারও অনিয়ম দুর্নীতির দায়ও নেব না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের এক বিভাগীয় প্রধান বলেন, ‘এখানে অভিযোগ আসে, আড়াল হয়ে যায় আবার কখনো কখনো প্রভাবিত হয়ে অতল হয়ে যায়। অনিয়ম দুর্নীতি করে নিয়োগ পায় আবার সেইভ করতেও তারা পাশে দাঁড়িয়ে যায়, তাই এদের কিছু হয় না। মধ্যে থেকে শিক্ষক পেশাটা কলঙ্কিত হয়। এটা উপাচার্য স্যার পর্যন্ত যাবে কিনা সেটিও ভাববার বিষয়।’
ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।