বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হকের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৮ সালের ২১ জুলাই তিনি রাজধানীর লালবাগে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে বাংলা সাহিত্যের একজন শক্তিমান কথাশিল্পী বলা হয়ে থাকে। তার লেখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা চমকপ্রদ। তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
কথাসাহিত্যিক মাহমুদুল হক ১৯৪০ সালের ১৬ নভেম্বর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বারাসাতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সিরাজুল হক ছিলেন অর্থ বিভাগের উপসচিব। মায়ের নাম মাহমুদা। ১০ ভাইবোনের মধ্যে মাহমুদুল হক ছিলেন চতুর্থ। ১৯৫০ সালে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৫৭ সালে ঢাকার ওয়েস্টএন্ড হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৫৯ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে অনার্সে ভর্তি হলেও তিনি আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করেননি। মাহমুদুল হক খুব নিভৃতচারী ছিলেন। তার লেখায় স্থান পেয়েছে বিচিত্র মানুষ, যাদের সবাই উন্মুল, কোথাও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি মনে করতেন, মানুষ সর্বদাই শিকড়হীন।
১৯৮২ সালের দিকে তিনি লেখালেখি ও জাগতিক কামনা-বাসনা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। প্রথম উপন্যাস ‘অনুর পাঠশালা’ ১৯৬৭ সালে লিখিত। কিন্তু উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ‘যেখানে খঞ্জনা পাখি’ নামে ১৯৭৩ সালে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় উপন্যাস ‘নিরাপদ তন্দ্রা’ (১৯৭৪) ও ‘জীবন আমার বোন’ (১৯৭৬)। এরপর ‘খেলাঘর’, ‘কালো বরফ’, ‘মাটির জাহাজ’ এবং দীর্ঘ বিরতিতে ‘অশরীরী’ প্রকাশিত হয়। একটি মাত্র গল্পগ্রন্থ ‘প্রতিদিন একটি রুমাল’ ও একটি শিশুতোষ বই ‘চিক্কোর কাবুক ছাড়া’। এ ছাড়া তার চারটি অনুবাদ গ্রন্থ রয়েছে। অগ্রন্থিত লেখার মধ্যে রয়েছে শতাধিক গল্প ও অন্তত দুটি উপন্যাস। এগুলো পরে বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। অগ্রন্থিত উপন্যাস দুটি হচ্ছে ‘দ্রৌপদীর আকাশে পাখি’ ও ‘পাতালপুরী’।
তিনি শিশুদের পত্রিকা ‘আলাপনী’, ‘শাহীন সেতারা’ প্রভৃতিতে নিয়মিত লিখতেন। তার ‘খেলাঘর’ উপন্যাসটি চলচ্চিত্ররূপ পেয়েছে। বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।