ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক সাংবাদিককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে পৌর মেয়রের ভাইয়ের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার দুপুরে আলফাডাঙ্গার বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার মুজাহিদুল ইসলাম ঢাকাটাইমস পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও আলফাডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সাংগাঠনিক সম্পাদক। আর অভিযুক্ত জাপান পৌর মেয়র সাইফুর রহমান সাইফারের ছোট ভাই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলফাডাঙ্গার রাজধানী পরিবহনের কাউন্টারে টিকিট কিনতে যান রমিজ নামের এক যুবক। তিনি ঢাকার একটি টিকিটের দাম পরিশোধ করে বাসে ওঠেন। বাস ছাড়ার আগ মুহূর্তে বাস কাউন্টার থেকে বলা হয় তিনি টিকিটের টাকা দেননি। তাই তাকে ঢাকায় যেতে দেওয়া হবে না। তখন বিষয়টি মুজাহিদকে জানিয়ে সহযোগিতা চান রমিজ। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টির মীমাংসা করার কথা বলতেই মুজাহিদের ওপর চড়াও হন কাউন্টারের ম্যানেজার জাপান ও তার সহযোগীরা। মুজাহিদকে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। মুজাহিদ জানান, জাপান ও তার পাঁচজন-ছয়জন সহযোগী হঠাৎ করে হামলা চালায়। তারা লোহার রড, স্ট্যাম্প দিয়ে পেটায়।
আলফাডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি সেকেন্দার আলম বলেন, ‘আমি ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি মুজাহিদকে বেধড়ক পেটাচ্ছে। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকরা তাকে ফরিদপুর মেডিকেলে রেফার্ড করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সুমন কর বলেন, ‘ঘটনা জানার পর পরই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এই ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে এটা মামলা হিসেবে নেওয়া হবে। সাংবাদিক নির্যাতনের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
ফরিদপুরে জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলফাডাঙ্গাকে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।’