লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতে অব্যাবস্থাপনার প্রতিবাদে রোববার পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ভোলা জেলা ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলম বুধবার দুপুর ৩টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
তার মত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ভোলা শহরব্যাপী উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে খণ্ড খণ্ড বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। জেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করা হয়।
সমাবেশ থেকে ভোলা জেলা বিএনপি সভাপতি অলহাজ গোলাম নবী আমলগীর বৃহস্পতিবার ভোলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেন।
বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ ঘোষণা দেন ।
যুবদল, ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় ঘন্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক জানান, ভোলা জেলা বিএনপির ডাকে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হবে। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কালো পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং বিএনপির ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।
তিনি বলেন, আমরা এ মৃত্যু ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের শাস্তি চাই। বিএনপির তরফ থেকে মামলার প্রস্তুতি রয়েছে।
তিনি জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়াসহ ঘটনার তদন্তে আজ কেন্দ্রীয় বিএনপির ১০ নেতা রাতে ভোলায় আসছেন । তারা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দলীয় অফিস এলাকাসহ নিহতদের বাড়ি যাবেন।
নুরে আলমের মৃত্যুর খবরে বিকাল থেকে শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। টহল দিচ্ছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের একটি টিম।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দেশ রুপান্তকে জানান, শহরের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা রুখতে বৃহস্পতিবার মাঠে থাকবে পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ড ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক টিম। জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ছাত্রদল সভাপতির মৃত্যুর খবর পেয়ে তারাও নিশ্চিত হতে ঢাকায় যোগাযোগ করেন। নিহত নুরে আলমের ময়নাতদন্ত ঢাকায় হবে বলেও জানান তিনি।
ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমের মৃত্যুর খবরে জেলা ছাত্রদল ও তার সহকর্মীসহ ভোলার বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলমত নির্বিশেষে অসংখ্য শোকবার্তা দেখা যায়।
বিএনপি নেতারা এ মৃত্যু ও হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের শাস্তি দাবি করেন।
এদিকে নুরে আলমের বড় ভাই ওয়াদুল হক বাবুল মোল্লা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, এমন মৃত্যু তারা মানতে পারছেন না। তার ৫ বছরের শিশু কন্যা ও স্ত্রীর ভবিষ্যত কী হবে ।
ভোলা জেলা বিএনপি সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর বলেন, পুলিশের গুলিতে এভাবে দুটি প্রাণ কেড়ে নেয়া মেনে নেয়া যায় না। আমরা এর বিচার চাই। পুলিশের গুলিতে আহত ছাত্রদল সভপতিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে বুধবার দুপুর ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড আর কতদিন চলবে ? আমরা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রহিম ও ছাত্রদল সভাপতি নুরে আলমের হত্যাকারী পুলিশ বাহিনীর বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা করছি। এ হরতালের মাধ্যমে সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই আমরা আমাদের আন্দোলন করেই যাব। কোনোভাবে আমাদের দমন করা যাবে না।
রবিবার জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশ-বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলেল এক নেতা নিহত ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরে আলমসহ অর্ধ শতাধিক বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী আহত হন। বুধবার বিকেল ৩ টায় মিনিটে রাজধানীর গ্রিন রোডে কমফোর্ট হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন ভোলা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরে আলম মারা যান। নিহত নুরে আলম (৩৫) ভোলা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরনোয়াবাদ এলাকার সাবেক প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু সালেহর ছেলে।