জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা সেতুতে বাঁশের মই

ভূমি অধিগ্রহণের ঝামেলায় ঝুলে আছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার শতকোটি টাকার রাজাপুরের সেতু। ২০১৮ সালের শেষের দিকে প্রায় শতকোটি টাকার এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে বছরখানেক আগে কাজ সম্পন্ন হলেও সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক এখনো হয়নি। ফলে লোকজন উঁচু সেতুর দুই পাশে বাঁশের মই ব্যবহার করে পারাপার হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকাবাসীর স্বপ্নের সেতুটি সংযোগ সড়ক না থাকায় মূল ভূমি থেকে বেশ উঁচুতে। ওঠানামার জন্য এর পশ্চিম পাশে প্রায় ৩০ ফুট এবং পূর্ব পাশে প্রায় ৫০ ফুট উঁচু বাঁশের মইয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মই বেয়ে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে ওঠানামা করছেন।

জানা যায়, কুলাউড়া-পৃত্থিমপাশা-হাজীপুর-শরীফপুর সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে মনু নদী। নদীটি দ্বিখ-িত করে রেখেছিল দক্ষিণ কুলাউড়া ও উত্তর কমলগঞ্জ উপজেলাকে। পরে ২০১৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজাপুর সেতু প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। ওই বছরের নভেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।

সেতুর নির্মাণকাজ বছরখানেক আগে সম্পন্ন হলেও দুই পাশের সংযোগ সড়ক না হওয়ায় এখন ঝুঁকি নিয়ে লোকজন পারাপার হচ্ছেন।

জানা গেছে, জন্মভূমি-ওয়াহিদুজ্জামান-নির্মিতি নামের সিলেটের যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজ পেয়ে ২০২১ সালের জুন মাসের দিকে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে। পরে সেতুর দুই পাশে সাড়ে সাত কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে জামিল-ইকবাল নামে সিলেটের আরেক যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজ পায়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মধ্যে এ কাজ সম্পন্নেরও কথা ছিল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। এতে এলাকাবাসী যাতায়াতের জন্য তৈরি করে নিয়েছেন বাঁশের সাঁকো।

ভুক্তভোগীরা জানান, হাজীপুর, শরীফপুরসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের প্রতিদিন এই সেতু পার হয়ে পৃত্থিমপাশা ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়। হাজারো মানুষের স্বপ্নের সেতুর নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ না হওয়ায় উন্নয়নের পথ খুলছে না। দ্রুত এই সেতুর নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ করার দাবি জানান তারা।

সড়ক বিভাগ মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার দায়িত্বে থাকা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ সরকার বলেন, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা আছে। যার কারণে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। এটি সম্পূর্ণভাবে শেষ করতে আরও এক থেকে দেড় বছর সময় লাগবে। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের ফাইল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদিত ফাইল পেলে দ্রুতই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।