মুরাদনগরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

মুরাদনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের শ্রেণিকক্ষে নেওয়া হচ্ছে ক্লাস। কয়েক দিন আগে বিদ্যালয়টির এক শ্রেণিকক্ষে খসে পড়ে বড় বড় পলেস্তারা। বিরতির সময় এ ঘটনা ঘটায় শিক্ষার্থীরা বাইরে ছিল বলে সময়ের হেরফেরে প্রাণে বাঁচে শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি ঘটে উপজেলার পুষ্করিণীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখন চোখে-মুখে আতঙ্ক নিয়ে স্কুলে এসে ক্লাস করছে তারা।

জানা যায়, শ্রেণিকক্ষ সংকট নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে আসছে পুষ্করিণীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন হলেও জরাজীর্ণ ভবনের তিনটিসহ মোট চারটি কক্ষে গাদাগাদি করে বসিয়ে চলে পাঠদান কার্যক্রম। জরাজীর্ণ ভবনে চোখে-মুখে আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়টিতে দ্রুত নতুন একটি ভবন তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিমুক্ত পাঠদান করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সবুজ মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলেডা যেই ক্লাসে বইসা পড়ালেখা করে, সেই ক্লাসের নাকি ছাদ ভাইঙ্গা পড়ছে! আল্লায় বাঁচাইছে আমার পোলাডারে। লেখাপড়া করতে গিয়া যদি স্কুলে ছাদ ভাইঙ্গা পোলাপান মারা যায় তাহলে কেমনে হবে! সরকারি একটা স্কুলের যদি এই অবস্থা হয়!’

আরেক অভিভাবক মির্জা হোসেন বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকি কখন কী হয়। আমরা এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আবেদন করছি।’

প্রধান শিক্ষক কোহিনুর আক্তার বলেন, ‘বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২১৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ সংকটে আমরা সঠিকভাবে পাঠদান করাতে পারছি না। বর্তমানে চারটি ক্লাসরুমের মধ্যে তিনটিই ঝুঁকিপূর্ণ। জরাজীর্ণ ভবনটিতে প্রতিনিয়ত চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে শিক্ষকরা ক্লাস করাচ্ছেন। আমাদের বিদ্যালয়ের দুই পাশে বাউন্ডারি দেয়াল নেই এবং দুই পাশে দুটি পুকুর থাকায় মাঝে মাঝে ছাত্রছাত্রীরা খেলাধুলা করতে গিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। বিদ্যালয়ে দপ্তরি না থাকায় আমরা অনেক কাজকর্ম করতে পারছি না।’

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সেলিম সরকার বলেন, ‘অনেকবার উপজেলায় আবেদন করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কয়েক দিন আগে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের ছাদ ও বিমের অনেকাংশ ভেঙে পড়ে। তখন ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসে না থাকায় হতাহতের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। অতিদ্রুত একটি নতুন ভবন করা না হলে এই গ্রামের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা পুরোটাই ভেঙে পড়বে।’

বাঙ্গরা ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘ভবনটির ছাদের বিম ভেঙে পড়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ভবনটি পরীক্ষা করার জন্য ইঞ্জিনিয়ার অফিসকে চিঠি দিতে বলা হয়েছে।’

মুরাদনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফওজিয়া আকতার বলেন, ‘পুষ্করিণীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি নতুন ভবনের জন্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন ভবনের অনুমোদন পাওয়া যাবে।’