রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে রুটে ২০টির বেশি ছোট লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করতো। যাত্রী চাপের কারণে খুব একটা সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হতো না লঞ্চ ও যাত্রীদের। কিছু সময় পরই ছেড়ে যেতো নিজ নিজ গন্তব্যে। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে বদলে গেছে সেই চিরচেনা দৃশ্য।
যে ঘাট সব সময় মানুষের পদচারণায় সরগরম থাকতো, সেই স্থানটি এখন অনেকটা নীরব। বেশির ভাগ নৌযানগুলো যাত্রী খরায় ভুগছে।
যাত্রী সংকটের কারণে প্রতিটি লঞ্চ ধারণ ক্ষমতা চেয়ে অনেক কম যাত্রী নিচ্ছে। অনেক সময় এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগছে একটি লঞ্চ ঘাট থেকে ছেড়ে যেতে।
সরেজমিনে লঞ্চঘাটে কয়েক দিন ঘুরে দেখা যায়, পন্টুনের সঙ্গে লঞ্চগুলো অন্যান্য সময়ের মতো সারি ধরে বেঁধে রাখা হয়েছে। কিন্তু তেমন যাত্রী না থাকায় লঞ্চগুলো ছাড়তে পারছে না।
অধিকাংশ চলমান লঞ্চগুলো ঘাটে এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে ৩০-৪০ জন যাত্রী নিয়ে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। যেখানে পদ্মা সেতু চালুর আগে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরপর লঞ্চগুলো শতাধিকের উপরে যাত্রী নিয়ে নদী পার হতো। সেখানে যাত্রীর সংখ্যা নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে। পাটুরিয়া ঘাট থেকে আসা লঞ্চগুলোতেও তেমন যাত্রী চোখে পড়েনি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ার আগেও যাত্রী ও যানবাহনের চাপ ছিল। সেতু চালুর পর থেকে ঘাট এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী পরিবহনসহ হালকা যানবাহনের চাপ কমে গেছে। সেই সঙ্গে নদী পার হতে আসা যাত্রীদের চাপ নেই বল্লেই চলে, কিন্তু সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
মাগুরা থেকে লঞ্চঘাটে আসা গাজীপুরগামী যাত্রী সালমান বলেন, আমি লঞ্চে যাওয়াটা বেশি উপভোগ করি, আমি ১৫ বছর ধরে চাকরির সুবাদে এইভাবেই যাতায়াত করি তবে পদ্মা সেতু চালুতে মহাসড়ক ও ঘাট অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে। আমি মাগুরা থেকে লঞ্চ পারাপার বাসে ঘাটে চলে এসেছি। ঘাট থেকে লঞ্চে নদী পার হয়ে তারপর যাবো।
এমভি টুম্পার চালক ঠান্ডু মিয়া বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর ঘাটে এতো যাত্রী কমে যাবে কখনো ভাবতেও পারিনি। ঘাটে এ রকম হাহাকার আগে কখনো দেখিনি। আমরা বর্তমানে অধিকাংশ সময়ে দৌলতদিয়া থেকে ৫০-৬০ জনের মতো যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে ছেড়ো যাচ্ছি। যাত্রী কম হওয়াতে খরচ বেড়ে গেছে। মালিকপক্ষ লোকসানের মুখে রয়েছে।
দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের ম্যানেজার নুরুল আলম মিলন বলেন, যাত্রীশূন্য হয়ে গেছে লঞ্চঘাট। ঘাটে দূরপাল্লার পরিবহনসহ লোকাল যাত্রী না আসায় প্রতিটি লঞ্চ ৪০-৫০ জন যাত্রী নিয়ে ঘাট ছেড়ে যাচ্ছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী লঞ্চগুলো চলাচল করছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আফতাব হোসেন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বর্তমানে ১৭টি লঞ্চ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচল করছে। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি, আমাদের যেমন নির্দেশনা দেয়া আছে সেই অনুযায়ী লঞ্চ চলাচলে সহযোগিতা করছি।