খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের প্রবহমান ভদ্রা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় বাঁধের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে নদীর পাশের গ্রাম প্লাবিত হতে পারে বলে শঙ্কায় রয়েছেন এলাকাবাসী। বাঁধের ভাঙন রোধে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ভদ্রা নদী থেকে দীর্ঘদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন যশোরের কেশবপুর উপজেলার সন্যাসগাছা এলাকার জনৈক জুলফিকার আলি। তিনি এসব বালু সন্যাসগাছা এলাকায় মেসার্স সরদার ব্রিকস নামের ইটভাটায় সরবরাহ করছেন। এর ফলে চুকনগর পালপাড়ার পাশ থেকে শুরু করে রুস্তমপুর অধ্যক্ষ আবু বক্করের বাড়ি পর্যন্ত ১ কিলোমিটার বাঁধের ৮০ শতাংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যে কোনো মুহূর্তে নদীর জোয়ারের পানি ভেতরে প্রবেশ করে গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রুস্তমপুর এলাকায় ড্রামের ওপর বাঁশের পাটাতন দিয়ে তার ওপর শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব বালু ৩০০ ফুট দূরে মেসার্স সরদার ব্রিকসে নেওয়া হচ্ছে। ৪-৫ জন শ্রমিক কাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাষক শেখ মনিরুল হক বলেন, ‘এভাবে বালু উত্তোলন করায় যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এতে প্রায় ৫ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে।’
কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থা চললেও বিষয়টি দেখার কেউ নেই। সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে ওই বাঁধের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছে। দ্রুত নদীর বালু উত্তোলন বন্ধ করে ভাঙনকবলিত বাঁধ ঠিক করতে হবে।’
বালু উত্তোলনের বিষয়ে জুলফিকার আলি বলেন, ‘ইটভাটার মালিক স্বপন সরদার আমাদের দিয়ে বালু উত্তোলন করাচ্ছেন। এ বালু তার ভাটায় নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনসহ সব জায়গায় তিনি দেখবেন।’
ইটভাটা মালিক স্বপন সরদার গত রবিবার বলেন, ‘নদী থেকে কিছু পলি মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। তিনদিন ধরে মেশিন লাগানো হয়েছে। তবে শনিবার সন্ধ্যায় ইউএনও স্যারের নির্দেশে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।’
এর আগে গত শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফ আসিফ রহমান বলেছিলেন, ‘এতদিন এ বিষয়ে কেউ জানায়নি। এখন বাঁধ ভাঙনের বিষয়টি জানতে পারলাম। দ্রুত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পাউবো-১ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী আশুতোষ বর্মন বলেন, ‘ড্রেজারের কারণে যদি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
সর্বশেষ গত সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউএনওর নির্দেশের পরও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। থেমে থেমে উত্তোলন করা হচ্ছে।