চিহ্নিত দালালদের নিয়ন্ত্রণে এখন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিস! সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চিহ্নিত দালালরা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ার-টেবিলে বসেই কাজ সারেন। কয়েক দিন ধরে বেশ কয়েকবার পেকুয়া সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দালালদের এমন উৎপাতের চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলার মগনামার এক বাসিন্দা বলেন, ‘ভাই কী আর করব, এ অফিসে দালাল ছাড়া কোনো কাজই হয় না।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই লোক আরও বলেন, ‘ভূমিসংক্রান্ত সমস্যার জন্য অফিসের কর্তাবাবুদের কাছে যেতে চাইলেও দালালরা যেতে দেয় না, কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসে দালালরা হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের টাকা।’
দেখা গেছে, ভূমি অফিস বা সরকারি কোনো দপ্তরের কর্মচারী না হলেও দালালরা পেকুয়া সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে প্রতিনিয়তই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এরা এখন ভূমি অফিসের অঘোষিত কর্মচারী! এদের অত্যাচারে ভূমি অফিসে আসা জমির মালিকরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। দালাল ছাড়া কোনো ভুক্তভোগী ভূমি অফিসের ধারেকাছেও যেতে পারেন না। দালালরা নির্নিষ্ট সময়ে জমির খতিয়ান, ভূমিসংক্রান্ত মামলাসহ ভূমির বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান করে দেওয়ার আশ্বাসে ভূমি অফিসের প্রকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ভাঙিয়ে সেবা প্রত্যাশীদের প্রলোভনে ফেলে আদায় করে মোটা অঙ্কের টাকা। এ ছাড়াও ভূমি অফিসের একশ্রেণির কর্মচারীর সঙ্গে এসব দালালের দারুণ সখ্য।
স্থানীয়রা জানান, পেকুয়া উপজেলার ভূমি অফিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দালালের উৎপাত সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। দালালের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ভাঙিয়ে লোকজনের কাছ থেকে জমির নানা সমস্যাকে পুঁজি করে হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।
ভূমি অফিসে সক্রিয় দালালদের মধ্যে অন্যতম পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ভোলাইয়া ঘোনা গ্রামের আমির হোসেন, রাজাখালীর হুমায়ুন কবির, আনোয়ারার সুভাষ, মগনামার কাজি মার্কেট এলাকার ছৈয়দ আলম, কুমিল্লার খোরশেদ আলম প্রমুখ।
সরেজমিনে দেখা যায়, আনোয়ারার চিহ্নিত দালাল সুভাষ ও কুমিল্লার খোরশেদ ভূমি অফিসের চেয়ার টেবিলে বসে দাপটের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পেকুয়ার ভোলাইঘোনার দালাল আমির হোসেন ও মগনামার ছৈয়দ আলম ভূমি অফিসের আলমিরা থেকে নিয়ে বিনা বাধায় সরকারি কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করছেন। কাগজপত্র নিয়ে টেবিলে টেবিলে তাদের দৌড়ঝাঁপ চোখে পড়ার মতো।
দালালদের তৎপরতার বিষয়ে জানতে চাইলে পেকুয়া সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কাজল শীল বলেন, মানুষ তাদের জায়গাজমি নিয়ে সরাসরি এসে আমাদের সহযোগিতা চাইলে কাজ করে দিই। পেকুয়া সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মকচারীদের সঙ্গে দালালদের সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, শিগগিরই ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা বলেন, পেকুয়া সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে দালাল ও হয়রানিমুক্ত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।