ধর্ষণের বিচার চেয়ে পূজা বর্জন মন্দিরের ফটকে কালো পতাকা

দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। সারা দেশের মণ্ডপে মণ্ডপে বাহারি রং আর ঝলমলের আলোর ঝলকানি। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে পূজা। বাহারি পোশাকে দেবী দর্শনে মন্দিরের সামনের ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমুদে মানুষের ভিড়। তবে উৎসবের এক্ষণে ব্যতিক্রম দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার টংগুয়া কুমোরপাড়ার মন্দিরে। সেখানে আসেনি দেবী দুর্গার বিগ্রহ, মণ্ডপ সাজেনি বর্ণিল সাজে। কুমোরপাড়ার মানুষও পরেননি নতুন পোশাক। মন্দিরের সামনে কালো পতাকা উড়িয়ে তারা জানান দিয়েছেন পূজা, উৎসব এবার তাদের জন্য নয়। এমনকি ওই পাড়ার মেয়ে উপো বালার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার বিচার না হওয়া অবধি তারা সেখানে কোনো পূজা বা উৎসবের আয়োজন করবেন না। 

স্থানীয়রা জানান, গত ২৯ জুলাই কুমোরপাড়ায় বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার পথে উপো বালা গণধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ১০ বছরের মেয়েকে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে মামলাটি পিবিআই তদন্ত করছে। কিন্তু দুই মাসেও এই মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ইতিপূর্বেও মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও স্মারকলিপি দিয়েছে নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠন। তাতেও কোনো কাজ না হওয়ায় এবার পূজা বর্জনের সিদ্ধান্ত তাদের। 

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, উপো বালার ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে এবার উপজেলার ২নং ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া কুমারপাড়া পূজা মন্ডপের ভক্তবৃন্দ ও এলাকাবাসী দুর্গাপূজা বর্জন করে মন্দিরে কালো পতাকা উত্তোলন করেছেন। অবস্থান নিয়েছেন দুর্গা মন্দিরের সামনের নাট মন্দিরে। 

ওই এলাকার বাসিন্দা অনন্ত কুমার রায় বলেন, উপো বালা হত্যাকাণ্ডের বিচার না পাওয়ায় আমরা এই শারদীয় দুর্গাপূজা বর্জন করে কালো পতাকা উত্তোলন করে শোক পালন করছি। যতদিন ন্যায়বিচার পাব না ততদিন আমরা এই মন্ডপে কোনো ধর্মীয় উৎসব করব না। আমরা এই শোক শক্তিরূপে নিতে চাই।

নিহতের চাচা জীতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, দুই মাসেও আসামিরা কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা হতাশ। স্বাধীন দেশে অত্যাচারের বিচার না হলে আমরা কোথায় যাব? কার কাছে বিচার চাইব? যতদিন এই ঘটনায় ন্যায়বিচার পাব না ততদিন এই মন্ডপে কোনো ধর্মীয় উৎসব করব না।

খানসামা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ধীমান দাস বলেন, তারা তাদের মেয়ে হত্যার প্রতিবাদ করবে এটা স্বাভাবিক। তারা বিভিন্ন পর্যায়ে এই বিষয়ে অবহিত করার পরও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় প্রতিবাদের এমন পথ বেছে নিয়েছে। আমরাও তাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেছি।

দিনাজপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. মকবুল হোসেন বলেন, মামলাটি কয়েক দিন আগে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলাটিতে কোনো আসামির নাম নেই। অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়েছে। তাই কিছুটা সময় লাগছে।