দিনাজপুরের পার্বতীপুরের গোবিন্দপুর চম্পাতলী ভবেরবাজার এলাকায় ছোট যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত সার্বজনীন বারোয়ারী দুর্গাপূজা মন্ডপ। প্রায় পাঁচ একর এলাকা জুড়ে অবস্থিত এ মন্ডপ রংপুর ও রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ পূজামন্ডপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গত ৪০ বছর ধরে এখানে শারদীয় দুর্গোৎসব হয়ে আসছে। তবে শেষ কয়েক বছরে এর পরিধি ও ব্যাপ্তি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বৈচিত্র্যতা ও সৌন্দর্য। মন্ডপের প্রবেশ পথে এবার ১২৫ ফুট লম্বা ও ৪০ ফুট প্রস্থের বিশাল আকৃতির গেট নির্মাণ করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরসহ আশপাশ এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন যানবাহন ভাড়া করে এ মন্ডপে আসেন।
আয়োজকদের দাবি, এবার পূজামন্ডপের সৌন্দর্য আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আরও অধিকসংখ্যক দর্শনার্থীর একযোগে দর্শন ও উপভোগ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামন্ডপে রাখা হয়েছে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা পথ।
পূজামন্ডপের বৈচিত্র্য, সৌন্দর্য ও প্রযুক্তির উদ্যোক্তা পলাশ কুমার রায় জানান, এবার মন্ডপ সাজাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকার বেশি। স্থানীয় আটজন সহযোগী শিল্পী নিয়ে ৫০ দিন ধরে মূর্তি তৈরি করা হয়। মন্ডপের ১২৫ ফুট লম্বা ও ৪০ ফুট প্রস্থের বিশাল আকৃতির গেটের পাশাপাশি ঘট ও পানির ঝরনা তৈরি করা হয়েছে।
পূজা উদযাপন কমিটির অন্যতম সদস্য সবুজ কুমার রায় বলেন, ‘নিরাপত্তার জন্য পুরো মন্ডপ এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে ২০০ জনের একটি দল দর্শানার্থীদের অভ্যর্থনা, আপ্যায়ন ও বিদায় প্রদানে দায়িত্ব পালন করছেন।’
পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জগদীশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘বড় পরিসরে আমাদের দুর্গোৎসবের আয়োজন গত ছয় বছর ধরে। আমরা এ উৎসবকে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত করেছি। আর এটা করা সম্ভব হয়েছে এখানকার ১০ গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতার কারণে।’
নওগাঁ থেকে মন্ডপে এসেছেন ষাটোর্ধ্ব দিপঙ্কর লাহিড়ী। তিনি বলেন, ‘এখানের পূজামন্ডপ ও দুর্গোৎসব দেখতে এসেছি। কয়েক বছর ধরেই আসব আসব করছিলাম। এবার চলে এসেছি। খুবই ভালো লাগছে।’
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ পার্বতীপুর শাখার সভাপতি কৈলাস প্রসাদ সোনার বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। চিরায়ত সম্প্রীতি ও আন্তরিকতায় অন্যান্য বছরের মতো এবারও পার্বতীপুরে দুর্গোৎসবে সবার মিলন মেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছি।’
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আবুল হাসনাত খান বলেন, ‘পূজা শুরুর আগেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি মন্ডপে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। এ কাজে প্রতিটি মন্ডপে পুলিশের পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশ চৌকিদার নিয়োগ করা হয়েছে।’