ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজের নাম-পরিচয় পরিবর্তন করেও দুটি হত্যা মামলার যাবজ্জীবন দ-প্রাপ্ত আলমগীর হোসেন ওরফে শাহিনের (৩১) শেষ রক্ষা হলো না। গত শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। শাহিনের বাড়ি সদর উপজেলার থলিয়ারা এলাকায়।
র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের জানান, ২০১৫ সালে মার্চে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন অটোরিকশাচালক উজ্জ্বল। পরদিন বিজয়নগরের বিষ্ণুপুরে ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে উজ্জ্বলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল শাহিনের। উজ্জ্বলকে হত্যা করে তার অটোরিকশাটি শাহিন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ হত্যা মামলার পলাতক আসামি ছিলেন শাহিন।
এ ঘটনার এক মাস পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বোল্লা টানপাড়া ব্রিজের নিচ থেকে অটোরিকশাচালক সোহরাবের হাত বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশি তদন্তে এ হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটিত হয়। তদন্তে প্রকাশ পায় যাত্রী বেশে সোহরাবকে হত্যা করে শাহিন অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় যাবজ্জীবন সাজা হয় শাহিনের।
এসব ঘটনায় পলাতক শাহিন যাবজ্জীবন সাজা ও মামলা থেকে রক্ষা পেতে চলতি বছরের জুলাই মাসে নিজের নাম পরিবর্তন করে আল আমিন নামে নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র করেন। সেখানে তার ঠিকানা নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ভাটিয়াপাড়া উল্লেখ করেন। র্যাব তদন্তে আলমগীর হোসেন ওরফে শাহিন নামে কোনো তথ্য নির্বাচন কমিশনে পায়নি। শাহিন একসময় মাদকের একটি মামলায় কারাগারে ছিল। কারাগারের নথি থেকে আলমগীর হোসেন ওরফে শাহিন নাম ও ছবি পাওয়া গেলে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।