ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘœ চলাচল নিশ্চিত করতে ফেনীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদচারী সেতুগুলো কাজে আসছে না। একতলা বা দোতলাবিশিষ্ট পদচারী সেতুর সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে সড়ক পার হওয়ার ধৈর্য মানুষের মধ্যে নেই বললেই চলে। ফলে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কের ওপর দিয়েই পারাপার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনীর ৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদচারী সেতু রয়েছে। মহাসড়কের মোহাম্মদ আলী বাজার, লালপোল, লেমুয়াব্রিজ, ফাজিলপুর ও মুতিগঞ্জেএসব পদচারী সেতুতে প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। ট্রাফিক পুলিশের একটি সূত্রমতে, গত দুই বছরে এভাবে মহাসড়ক পার হতে গিয়ে ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন।
সরেজমিনে ফেনীর লালপোলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নির্মিত পদচারী সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর নিচে নির্মিত সড়ক বিভাজকের ফাঁক দিয়ে পথচারী, যাত্রী, প্রতিবন্ধী ও স্কুলশিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে। সেখানে প্রতি ১০ থেকে ১৫ মিনিটে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন মানুষ ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হচ্ছে।
গত তিন বছর আগে লালপোলে ডিভাইডারের ওপর দিয়ে লাফ দিয়ে পার হতে গিয়ে দ্রুতগামী বাসের নিচে চাপা পড়ে কালীদহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছিল। এ ছাড়া গত বছর এক স্কুলশিক্ষকের করুণ মৃত্যু হয়েছে। অনেকে আহত হয়ে পঙ্গু জীবনযাপন করছেন।
পথচারী ও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, মানুষ সহজে মহাসড়ক পার হওয়ার পথ নিচ দিয়ে করা আছে। মানুষ কেন কষ্ট করে পদচারী সেতু ব্যবহার করবে। লালপোল এলাকায় বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী গাড়ির যাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি। কিন্তু যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে পদচারী সেতু ব্যবহার না করে সড়ক বিভাজকের ফাঁক দিয়ে তড়িঘড়ি করে পার হয়।
লালপোল এলাকার দোকানদার আবদুর রহিম বলেন, ‘লালপোলের ওভারব্রিজটি (পদচারী সেতু) সঠিক জায়গায় আছে, কিন্তু পথচারী ও যাত্রীরা ব্রিজে উঠতে চায় না। কারণ সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে কষ্ট হয়।’
মহিপালের ব্যবসায়ী রিয়াদ বলেন, ‘মহাসড়কে বা পৌর শহরে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে অভিভাবকসহ সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিভিন্ন সময় অভিভাবকরাই তাদের ছেলেমেয়েদের নিয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে নিচ দিয়ে নিয়ে যায়। তাদের কাছ থেকে ছেলেমেয়েরা এসব অনিয়ম শিখছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মহাসড়কের ওপর নির্মিত পদচারী সেতুগুলো সঠিকস্থানে করা হয়নি। তা ছাড়া সেতুর ওপর বখাটে, মাদকসেবীদের আড্ডা, যৌনকর্মী, ভিক্ষুক ও হকারদের দখলদারিত্বের কারণে বেশিরভাগ মানুষ সেতুর ওপর উঠতে চান না।
ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল বলেন, ‘পদচারী সেতু ব্যবহারে মানুষের সচেতনতার বিকল্প কিছু নেই। মানুষের অনীহা দূর করতে ইতিমধ্যে সড়ক বিভাজকের ফাঁক বন্ধ করার কাজ শুরু হয়েছে। মাঝেমধ্যে মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহাসড়ক নিয়ে সরকারের আরও নতুন নতুন পরিকল্পনা রয়েছে, যা আগামীতে দৃশ্যমান হবে।’
ফেনী হাইওয়ে থানার ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, ‘মানুষ নিজের জীবনের মায়া না করলে অন্য কারও পক্ষে সম্ভব নয় তাদের বাঁচানো। মানুষ আইন ভঙ্গ করাকে গর্ব মনে করে। এ ব্যাপারে আমরা মাঝেমধ্যে বিভিন্ন পেশাজীবী, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করি। যাতে তারা জীবনের ঝুঁকি এড়াতে পদচারী সেতু ব্যবহার করে।’