হিলিতে আবারও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম

চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের আমদানি কমের অজুহাতে আবারও দুদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ৬ থেকে ৭ টাকা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে ইন্দোর নাসিক জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। বন্দরে ইন্দোর জাতের ছোট আকারের পেঁয়াজ ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা বিক্রি হচ্ছে যা পূর্বে ২৬/২৭ টাকা বিক্রি হয়েছিল।

এ ছাড়া একই জাতের বড় আকারের পেঁয়াজ ৩৫/৩৬ টাকা যা পূর্বে ২৯ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হয়েছিল। নাসিক জাতের পেঁয়াজ ৪৫ টাকা কেজি যা পূর্বে ৩৮/৩৯ টাকা ছিল।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক বাবলুর রহমান জানান, ভারতে বন্যার কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমে সেদেশের বাজারেই পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। যার কারণে বাড়তি দামে কিনতে হওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়তি। এর সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে এলসি সংকট আমি ব্যাংকে প্রোফর্মা ইনভয়েস দিয়েছি পেঁয়াজের এলসি খোলার জন্য। কিন্তু ব্যাংকের ম্যানেজার আমাকে জানিয়েছেন তারা এলসি খুলতে পারছেন না প্রধান শাখা থেকে আপাতত নিষেধ করা হয়েছে। কি কারণে বন্ধ সেটিও বলছে না যার কারণে আমি কয়েক দিন ধরে ব্যাংকে প্রোফর্মা দিয়ে রেখেছি কিন্তু এলসি খোলা যাচ্ছে না। যার কারণে ভারতের অভ্যন্তরে আমাদের অনেক পেঁয়াজ আটকা রয়েছে যেগুলো দেশে ঢোকার কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না।

ব্যাংক যখন আবার এলসি খোলা শুরু করবে সেসময় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি যেমন বাড়বে তাতে করে দাম আবারও কমে আসবে।

এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দরের অগ্রণী ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক শাখা কর্তৃপক্ষের নিকট বক্তব্য জানতে চাইলে তারা কেউই অফিশিয়ালি বক্তব্য দিতে রাজি নন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এলসি খোলা বন্ধ রয়েছে যা পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

তবে পূর্বের খোলা এলসির বিপরীতে পণ্য আমদানি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত থাকলেও আমদানির পরিমাণ আগের তুলনায় খানিকটা কমেছে। পূর্বে বন্দর দিয়ে ৩০ থেকে ৪০ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে তা কমে ১৫ থেকে ২০ট্রাকে নেমেছে। গতকাল শনিবার বন্দর দিয়ে ১৭টি ট্রাকে ৪৩৭টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। যেখানে বৃহস্পতিবার বন্দর দিয়ে ২৩টি ট্রাকে ৬৭৫টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল। আজও বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে।