সমাবেশের আগে ধর্মঘটের প্রতিবাদ রাজশাহী বিএনপির

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে হওয়ার কথা বিরোধী দল বিএনপির নবম বিভাগীয় গণসমাবেশ। নগরীর মাদ্রাসা মাঠে এই সমাবেশ করতে চান দলটির নেতারা। কিন্তু সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো সেখানে সমাবেশ করার অনুমতি পাননি তারা। যে কারণে সব প্রস্তুতি নিলেও সমাবেশের মঞ্চ বানাতে পারছে না বিএনপি। দলটির এই সমাবেশ ঘিরে মাদ্রাসা মাঠে থাকছে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারা। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজশাহী জেলা ও নগর বিএনপির পক্ষ থেকে নগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন দলটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত বলেন, ‘আজ পর্যন্ত আমাদের মাঠ দেওয়া হয়নি। মাদ্রাসা মাঠের গেটে পুলিশ তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। আমরা আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো মাঠ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ ককটেল উদ্ধারের নামে নতুন সন্ত্রাস তৈরি করছে। নয়টি উপজেলায় মামলা হয়েছে। সেই মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তারবাণিজ্য করছে।’ সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘রাজশাহী জেলার সব থানাতেই বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। সেই মামলাগুলোর নকল দেওয়া হচ্ছে না। আবেদন করার পরও সেটা পাচ্ছি না। বিদেশে থাকা নেতাকর্মীদের নামেও মামলা হয়েছে। জেলার বাইরে যারা আছেন, তাদের নামেও মামলা হচ্ছে। তবে যত বাধাই আসুক আমরা এই সমাবেশ করব। সমাবেশ সফল হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মাদ্রাসা মাঠে সমাবেশের জন্য বিএনপির আবেদন প্রসঙ্গে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেছেন, তিনি শুনছেন যে বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু তিনি এখনো সেটা হাতে পাননি। হয়তো ডাকযোগে দিয়েছে। আবেদনপত্র পেলে দেখবেন বিএনপি কী শর্তে মাঠটি চেয়েছে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সমাবেশের আগে পরিবহন ধর্মঘটের প্রতিবাদে বিক্ষোভ : বিএনপির সমাবেশের আগে রাজশাহী বিভাগে ১ ডিসেম্বর থেকে ডাকা পরিবহন ধর্মঘটের প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এই ধর্মঘট সরকারের চাপিয়ে দেওয়া বলে দাবি করেছেন তারা। গতকাল বিকেলে নগরীর মালোপাড়ায় বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়। রাজশাহীর ‘পরিবহন শ্রমিকবৃন্দ’র ব্যানারে আয়োজিত মিছিলটি আশপাশের রাস্তা ঘুরে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন তারা।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘এই ধর্মঘট মালিক-শ্রমিক কারও নয়, এটা সরকারের চাপিয়ে দেওয়া এবং সাজানো ধর্মঘট। কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঠেকাতে এ ধরনের ধর্মঘট পৃথিবীর নজিরে নেই। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার এই কু-নজির স্থাপন করেছে।’