মিরসরাইয়ে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১১

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১১ জন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মী আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার ভোর সাড়ে ৪টায় জোরারগঞ্জ বাজারের মুহুরী প্রজেক্ট সড়কের মুক্তিযোদ্ধা হোটেলের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এসময় ৬টি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাঈনুদ্দিন টিটুর সমর্থক। হামলায় আহতরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাস্টারের সমর্থক বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে কাউছার আহমেদ আরিফের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি সাহেদ বিন কামালকে পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে মাঈনুদ্দিন টিটু গ্রুপের সঙ্গে চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাস্টারের বিরোধ চলে আসছে। গত ২২ ডিসেম্বর জোরারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা শুরু হয়। মেলার প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাস্টার। অভিযোগ ওঠে, মেলা চলাকালে টিটু গ্রুপের কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই মেলা শেষে গতকাল রবিবার ভোরে রেজাউল করিম মাস্টার গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর টিটু গ্রুপের কর্মীরা হামলা ও গুলি চালায়। অবশ্য এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর রাতেও দুগ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। সেদিন মেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং প্রধান বক্তা ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। সে কারণে উভয় পক্ষ নিজেদের কর্মীদের সামলে রাখে। ওইদিন স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের অনুষ্ঠান শেষে সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন মেলা থেকে বাড়ি চলে গেলে চেয়ারম্যান ও মেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী রেজাউল করিম মাস্টার দীর্ঘ বক্তব্য দেন দুপক্ষের উত্তেজনার বিষয়ে।

জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেলার প্রধান সমন্বয়কারী রেজাউল করিম মাস্টার জানান, গত শনিবার মেলার শেষদিন ছিল। মেলার সবকিছু শেষ করে গতকাল রবিবার ভোরে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা বাড়িতে যাওয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধা হোটেলের সামনে অপেক্ষা করছে। এমন সময় মাঈনুদ্দিন টিটুর নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা ও গুলি চালানো শুরু করে। হামলা ও গুলিবিদ্ধ হয়ে ছাত্রলীগ যুবলীগের ১১ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আহত নেতাকর্মীদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে মাইনুদ্দিন টিটুর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাইনুদ্দিন টিটুর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আহতদের বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আদিত ইসমাইল বলেন, জোরারগঞ্জে মেলায় সংঘর্ষের ঘটনায় হাসপাতালে আনা আহত ১১ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। গায়ে ছররাগুলি লাগায় আহত ৭ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি জাহিদ হোসেন জানান, জোরারগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার শেষ সময়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪-৫ জন আহত হয়েছে বলে শুনেছি। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি আমরা। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি আমরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানান।