কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা

লিট ফেস্টের আয়োজকরা টিকিটের কথা জানায়নি

আন্তর্জাতিক লেখক দিবসের প্রবক্তা কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক। বাংলা ভাষার অগ্রগণ্য কবিদের একজন এই কবি লিখেছেন বাংলা ভাষার প্রতিনিধিত্বশীল কবিতা। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক জয়ী এ কবি বাংলা একাডেমিতে হে ফেস্টিভাল আয়োজনের বিরোধীদের অন্যতম ছিলেন। যা পরে ঢাকা লিট ফেস্ট নামে আয়োজিত হচ্ছে। লিট ফেস্ট সামনে রেখে তার মুখোমুখি হয়েছিলেন ধ্রুপদি সম্পাদক শিমুল সালাহ্উদ্দিন

দেশ রূপান্তর : হুদা ভাই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে লিট ফেস্ট শুরু হচ্ছে, আপনি একাডেমির মহাপরিচালক। গণমাধ্যমে দেওয়া লিট ফেস্ট উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে আমরা জেনেছি বাংলা একাডেমি এবার ভেন্যুর জন্য ২১ লাখ টাকা নিয়েছে। তদুপরি অসহযোগিতার অভিযোগও আছে। আপনি একাডেমির মহাপরিচালক, আমাদের প্রশ্ন কোন বিবেচনায় আসলে আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার এত বেশি টাকা দাবি করা হয়েছে? ভেন্যু পার্টনার হিসেবে আগের বছরগুলোতে ছিল বাংলা একাডেমিও। তারা আগে ফ্রি পেয়েছে এমন আলাপও শোনা যাচ্ছে।

মুহম্মদ নূরুল হুদা :  প্রথম কথা হচ্ছে লিট ফেস্টের জন্য কখনোই বাংলা একাডেমি ফ্রি তারা পায়নি। সবসময়েই নিয়মানুযায়ী ভাড়া দিয়েই বাংলা একাডেমি ব্যবহার করেছে। বর্তমানে বাংলা একাডেমির সব মিলনায়তন, অডিটোরিয়াম সংস্কার করা হয়েছে, সাউন্ড ও লাইট নতুন করে বসানো হয়েছে, ফলে সবগুলো মিলনায়তন এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ।  আমাদের সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সেমিনার কক্ষ, এটা গত বিশ বছর যাবৎ বন্ধ ছিল, এবার সেটা চালু হয়েছে, তারাও ওটা ব্যবহার করবে, একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তন, কবি শামসুর রাহমান হল এবং পাশের একটা মুক্তমঞ্চও ওরা ব্যবহার করবে, পুরো মাঠ ব্যবহার করবে, নজরুল মঞ্চ পুনঃসংস্কার করেছি, সেটা ব্যবহার করবে। সব মিলনায়তনের নতুন ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে, এবং তবুও বলব ওদের কাছে ভাড়া বেশি চাওয়া হয়নি, পুরো এলাকাটা ওরা ব্যবহার করবে, তার জন্যও একটা ভাড়া আছে, এর আগে একদিনের জন্য প্রথম আলো যে ভাড়া দিয়েছে, আমরা যদি সেই রেট ধরতাম এটা অনেকগুণ হয়ে যাবে।

দেশ রূপান্তর : প্রথম আলোর চেয়ে কম ভাড়ায় আপনারা এটা দিয়েছেন আসলে?

মুহম্মদ নূরুল হুদা :  অবশ্যই। অনেক কম ভাড়ায়। যেহেতু আন্তর্জাতিক বড় লেখকরা আসবেন সেটা বিবেচনায় তাদের কম ভাড়ায় দেওয়া হয়েছে। তারা যদি বলে থাকে বাংলা একাডেমিতে তারা ফ্রি অনুষ্ঠান করেছে, এটা একেবারেই সত্য না, গতবার তো আমি দেখেছি, দু-বছর আগে কী হয়েছে তা আমার জানার কথা নয়। আর তাদের সঙ্গে আমাদের যে আলাপ হয়েছে, তখন পর্যন্ত আমাদের কাউন্সিল (বাংলা একাডেমি পরিচালনা পর্ষদ) সম্পূর্ণ তাদের বিপক্ষে ছিল, এবং কাউন্সিল এখন পর্যন্ত পুরো তাদের দেওয়ার জন্য আমাদের কিন্তু সিদ্ধান্ত দেয়নি, মন্ত্রণালয়কে তারা চিঠি দিয়েছেন মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি, মন্ত্রণালয় আমাদের বলেছে, বাংলা একাডেমির যা পাওনা ওদের কাছে আগে সেটা নাও তারপর সিদ্ধান্ত। আগের বাকি টাকা ওরা দেওয়ার পরই নেগোসিয়েশন শুরু হয়েছে। তারপর তারা আমাদের মিলনায়তনগুলোর ভাড়া কত জানতে চেয়েছে, আমরা তাদের জানিয়েছি চিঠি দিয়ে। তারা এই ভাড়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেনি। প্রশ্ন না তুলে তারা বলেছে যে, আমরা ভাড়াটা পরে দেব, আপনারা আমাদের মাঠ ব্যবহারের বরাদ্দপত্র দেন, বাংলা একাডেমি বলেছে সেটা সম্ভব না, কারও পক্ষেই দেওয়া সম্ভব না, আপনারা আগেও সেটা পাননি, এরপর তারা ৫০% অ্যাডভান্স দেওয়ার পর উৎসব করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। উনারা নিয়ম না মেনে যে অভিযোগ করছেন, এটা পুরোপুরি অমূলক। যে রেন্ট বর্তমানে আসে তারপরও কিন্তু সাহিত্য উৎসব বলে আমার পক্ষ থেকে যে বিবেচনা করা সম্ভব সেটা করে আমি কমিয়ে দিয়েছি।

দেশ রূপান্তর : আপনি কমিয়ে দিয়েছেন?

মুহম্মদ নূরুল হুদা :  আমি একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে কমিয়ে দিয়েছি।

দেশ রূপান্তর : তার মানে তো আপনি সহযোগিতা করেছেন, আয়োজকরা কিন্তু অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। আগে পরে অনেক কম সময় তাদের কাজের সুযোগ দিচ্ছে বাংলা একাডেমি, এমন জানতে পেরেছি আমরা।

মুহম্মদ নূরুল হুদা :   বাংলা একাডেমি কোনো অসহযোগিতা করেনি, বাংলা একাডেমি যদি কোনো অসহযোগিতা করত, তাহলে উৎসব হতেই পারত না। এই মুহূর্তে, আজ জানুয়ারির ৩, ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে বইমেলা শুরু, সামনে মেলা ফলে বাংলা অ্যাকাডেমি জানুয়ারিতে কাউকেই অ্যাকাডেমি ব্যবহার করতে দেয় না, ১ তারিখ থেকেই আমাদের মাঠে কাজ করার কথা, আমরা লিট ফেস্টের জন্য ১০ তারিখের আগে কাজই শুরু করতে পারব না, তো আমরা কতখানি পিছিয়ে গেলাম! আর বইমেলার আগে জানুয়ারিতে এটা কখনো হয়নি, এটা নভেম্বরে হলে কোনো অসুবিধা ছিল না, সেপ্টেম্বরে হলেও না, জাস্ট বইমেলার আগে এভাবে একাডেমি প্রিমাইজ দেওয়া খুবই অসুবিধার। আমি বারবার তাদের বলেছি নভেম্বরে করতে, তারা অন্য কারণ দেখিয়েছে, সেই কারণ তো আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তারপরও বিভিন্ন কর্নারের



দেশ রূপান্তর : চাপে?

মুহম্মদ নূরুল হুদা :  চাপে বলব না, অনেকে অনুরোধ করেছে, আমরা মান্য করার চেষ্টা করেছি, আমাদের শত অসুবিধার মধ্যেও আমরা চেয়েছি উৎসবটা হোক।

দেশ রূপান্তর : কিন্তু আপনি তো এই লিট ফেস্টের যে আগের ভার্সন হে ফেস্টিভাল এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, আপনি প্রতিবাদও করেছেন, অনেকে আপনার ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছে!

মুহম্মদ নূরুল হুদা :  শতভাগ আমি সেই প্রতিবাদ করেছি। আমি এখনো সেই অবস্থানে অনড়। আমি বলেছিলাম হে ফেস্টিভাল বাংলা একাডেমিতে হবে না, হতে পারে ব্রিটিশ কাউন্সিলে, হতে পারে ঢাকা বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে, আমার ডিপার্টমেন্টেও হতে পারে আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি পড়াই, কারণ হে এর সঙ্গে শিক্ষায়তনের ঐতিহ্য জড়িত, বাংলা একাডেমি জাতির মননের প্রতীক, সেটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না। আমাদের প্রতিবাদটাও কিন্তু একটা কারণ এটার নাম বদলানোর, ঢাকা লিট ফেস্ট করতে বলেছে অনেকেই যারা বাইরে থেকে এসেছে। আমাদের সে সময়ের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তিনি তো ওদের প্যাট্রন ছিলেন, তিনি বলেছেন ইট শুড বি ঢাকা লিট ফেস্ট। তখন আমাকে যখন বলেছে আমি অংশ নিয়েছি।

দেশ রূপান্তর : এবারও আপনি অংশ নিচ্ছেন

মুহম্মদ নূরুল হুদা : অবশ্যই, আমাকে আমন্ত্রণ করেছে, আমি পারটিসিপেট করব, বাংলা একাডেমিতে হচ্ছে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ থাকলে তো আমি পারটিসিপেট করব না। যখন সাদাফ আমার কাছে প্রথম আসে তখনই আমি বলেছি অবশ্যই করতে পারবে, তবে তুমি যে সময়টা বলছ আমাদের জন্য খুবই অসুবিধা হবে। বাংলা একাডেমির ঘাসও তো রেস্ট চায়, কতবার মাড়াবে মানুষ এই ঘাস! তারপরও অসুবিধা স্বীকার করে আমরা দিয়েছি, অর্থের ছাড় আমরা দিতে পারিনি কারণ ওদের আগের উৎসবের টাকা বাকি ছিল এবং সেটা অডিট অবজেকশন হয়ে আছে। এত কথা সত্ত্বেও আমরা ওদের কাছে ফিফটি পার্সেন্ট টাকা নিয়েছি মাত্র। আমার মনে হচ্ছে ঐ ফিফটি পার্সেন্ট টাকা না দেওয়ার জন্য তারা গণমাধ্যমে অসহযোগিতার কথা বলছে, এ-সমস্ত কাজ করছে। আমি শুধু এটুকু বলব, আমি না থাকলে এই ফেস্টিভাল ওরা করতেই পারত না, এখনো তারা দেখতে পারে আমি কাউন্সিল থেকে ক্লিয়ারেন্স পাইনি। কিন্তু তাদের প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে লিখিত কোনো ছাড় আমি এখনো পাইনি। তবুও শুধু নিজের রিস্ক নিয়ে মুখের কথায় আমি এটা করে দিয়েছি যে এত বড় বড় লেখক আসবেন তারা যেন বিড়ম্বনায় না পড়েন। তারা অসহযোগিতার অভিযোগ আমাকে করবে এ কারণেই করে দিয়েছি। এখানে আমার নিজস্ব কোনো গেইন বা সুবিধার কিছু নেই। সাহিত্য অনুরাগী মানুষের সুবিধার কথাই আমি ভেবেছি।

দেশ রূপান্তর : শত অসুবিধা স্বীকার করার কথা বলছেন, বাংলা একাডেমির ক্ষতিটা কী?

মুহম্মদ নূরুল হুদা :  আমাদের কষ্ট হবে, ১৫ জানুয়ারির আগে মেলার কোনো কাজ প্রায় করাই যাবে না। প্রধানমন্ত্রী এই মেলায় আসেন প্রথম দিন, জানেন সবাই, আমাদের প্রস্তুতিটাও সেই পর্যায়ের হওয়া উচিত, সেই ক্ষতিটা হবে, বাংলা একাডেমির অসুবিধা হবে।

দেশ রূপান্তর : হুদা ভাই, লিট ফেস্ট আমাদের সাহিত্যের কোনো উপকারে লাগছে বলে আপনি মনে করেন?

মুহম্মদ নূরুল হুদা : আমি বলব, যে যেকোনো রকমের সাহিত্যিক ইন্টার‌্যাকশন সাহিত্যের জন্য উপকারী। তারা এক ধরনের সাহিত্য লেখে, আন্তর্জাতিক পলিশড লিটারেচারের সঙ্গে তারা যুক্ত, তারা আসছেন, আলাপ হবে, এর ফলে বাংলাদেশের তো একটা উন্নতি হবেই। তবে বাংলা সাহিত্য এতদূর যে এগিয়ে গেছে তার কারণ অষ্টাদশ শতাব্দীতে মাইকেল মধুসূদন দত্তর মতো ব্যক্তি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, বাংলা ভাষায় রবীন্দ্রনাথ নজরুল লিখেছেন। অনুবাদ হয়ে পৃথিবীতে সাহিত্য ছড়িয়ে যাওয়া আমি অস্বীকার করছি না, আমি নিজেও ইংরেজি সাহিত্য পড়া লোক, বাংলা একাডেমিতে অনুবাদ বিভাগ প্রথম থেকেই চালু আছে, এই উৎসব অবশ্যই আমাদের উপকারে আসবে, কিন্তু অনুষ্ঠানটা অসময়ে করা যাবে না, বিশেষ করে বইমেলার আগে, নভেম্বরের পরে করলে বাংলা একাডেমির জন্য সবসময় অসুবিধা হয়ে যাবে।  বাংলা একাডেমির কর্মকর্তারা যারা আছেন তাদের জন্যও কিন্তু এই সময়ে চারদিন স্পেয়ার করা খুবই কষ্টকর। লিট ফেস্টিভাল বা হে ফেস্টিভাল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে হয়েছে, ভারতেও হয়, মূলত করপোরেট আনুকূল্যে হয়, সেসব দেশে ফেস্টিভালের কারণে সাহিত্য কতটুকু উন্নত হয়েছে আমার কিন্তু জানা নেই, এমন কোনো জরিপও হয়তো নেই। আর আমার মনে হয় মাতৃভাষায় না লিখলে কেউ পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সাহিত্য লিখতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। আমি উদাহরণ দিচ্ছি, রবীন্দ্রনাথ কিন্তু মাতৃভাষায় লিখিত রচনার অনুবাদের জন্যই পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজে মাতৃভাষায় লেখা রচনার অনুবাদ হতে পারে, মৌলিক সাহিত্যসৃজন কঠিন। ফলে উৎসভাষা বা সোর্স ল্যাংগুয়েজ মাতৃভাষা হওয়া জরুরি।

দেশ রূপান্তর : তার মানে বাংলা একাডেমি নিয়ম মেনে ভাড়া দিয়েছে?

মুহম্মদ নূরুল হুদা :  অবশ্যই। তাদের মুখ থেকে তারা অর্ধেক ভাড়া দেবে বলার পর আমি বিভিন্ন জায়গায় কন্টাক্ট করেছি।

দেশ রূপান্তর : কিন্তু লিট ফেস্ট কর্র্তৃপক্ষ তো এবার টিকিট চালু করেছে প্রথমবারের মতো! চারদিন বাংলা একাডেমিতে একটা উৎসব হচ্ছে, চারদিন বাংলা একাডেমিতে কেউ টিকিট ছাড়া ঢুকতে পারবে না এ ব্যাপারটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

মুহম্মদ নূরুল হুদা : টিকিট করার ব্যাপারে তো আমার সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। আমার সঙ্গে টিকিট বিষয়ক কোনো আলোচনাই হয়নি। এটা আমি অন্য সোর্স থেকে শুনেছি। এখন আমরা বাংলা একাডেমি থেকে বরাদ্দপত্র দিয়েছি, বাংলা একাডেমি বইমেলাতেও আমরা টিকিট রাখি না জনগণের কথা চিন্তা করে, সেখানেও আমাদের সরকারের পারমিশন লাগবে। টিকিট বিষয়ে আমাদের কনসার্ন ওরা নেয়নি, নিশ্চয়ই তাহলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো এপ্রোপ্রিয়েট বডি থেকে তারা পারমিশন নিয়েছে। নইলে কীভাবে টিকিট চালু করল? এক্ষেত্রেও তারা (আয়োজকরা) কিন্তু নিয়মের বাইরে চলে গেছে।

দেশ রূপান্তর : তার মানে আপনি টিকিট কাটেননি! বাংলা একাডেমিতে কীভাবে ঢুকবেন চারদিন!

মুহম্মদ নূরুল হুদা :  আমি তো পারটিসিপেন্টও, আমি হয়তো কার্ড নিয়ে ঢুকব বা আমাকে চেনে, কিন্তু আমার কর্মীরা কী করবে ভাবছি। শোনেন, আমার মন্ত্রী আমার সচিব যখন আমাকে টেলিফোন করেছেন আমি বলেছি পারমিশন আপনারা কি দিয়েছেন, না দিলে আমি কীভাবে দেব! আমি তো ভাড়া দিয়েছি!

দেশ রূপান্তর : কিন্তু হুদা ভাই বাংলা একাডেমি তো একটা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম না, বাংলা একাডেমি তো এভাবে ভাড়া দিতে পারে না। তাই না? বাংলা একাডেমির তো সাহিত্যের প্রতি সাহিত্যিকের প্রতি দায়িত্ব আছে।

মুহম্মদ নূরুল হুদা : অবশ্যই দায়িত্ব আছে বলেই বাংলা একাডেমি লিট ফেস্ট করতে দিচ্ছে, কিন্তু আয়োজকরা টিকিট বিক্রি করবেন এমন কথা কোথাও আমাদের আবেদনপত্র বা কিছুতেই উল্লেখ করেনি।

দেশ রূপান্তর : তার মানে হুদা ভাই এই উৎসব ঠিক আছে, শুধুমাত্র আয়োজকরা নিয়ম মেনে করলেই ঠিক আছে? খালি টিকিটের ব্যাপারটা আপনি জানতেন না?

মুহম্মদ নূরুল হুদা :  উৎসব ঠিক আছে, সাহিত্য শিল্প নিয়ে যে কোনো উৎসবই আমরা স্বাগত জানাই, আমিও জানাই। কিন্তু টিকিটের ব্যাপারটা ওরা আমাকে এখনো বলেইনি। অথচ টিকিট বিক্রি হচ্ছে। আমার প্রশ্ন হলো, বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঢোকার সময়ও কি টিকিট লাগবে? যদি লাগে, আমি বলব নো, আমি অফিস বন্ধ করে এই উৎসব তো করতে দিতে পারব না মেলার আগে!

দেশ রূপান্তর : বাংলা ভাষার কবিদের তরুণদের টিকিট কেটে লিট ফেস্টে আসতে হবে, এমন লিট ফেস্ট হচ্ছে হুদা ভাই!

মুহম্মদ নূরুল হুদা :  আমার তো টিকিট কাটতে হয়নি আগে কখনো! পারটিসিপেন্ট ওরা আমাকে রেখেছে, আমাকে যথেষ্ট সম্মান ওরা করেছে, কিন্তু আমাকেও তো বাংলা একাডেমির ভূমিকা ভুললে হবে না। আমাকে আমার মতো চলতে হবে। সাদাফ প্রথমদিকে এসেছিল আর আসেনি, আমার মনে হয় তারা যেভাবে করতে চেয়েছে সেভাবে করার অনুমতি তারা পায়নি। আমার দিকে ওরা আঙুল তুলছে কারণ প্রথমবার হে ফেস্টিভালের বিরোধিতা করেছি আমি, হে তো আর এখন নেই, নিয়ম মেনে তারা উৎসব করলে আমার কোনো আপত্তিও নেই।

দেশ রূপান্তর: ধন্যবাদ হুদা ভাই আমাকে সময় দেওয়ার জন্য।

মুহম্মদ নূরুল হুদা : তোমাকেও ধন্যবাদ। দুঃখিত অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে।