ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দুদিনের সফরে ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। ১৪ জানুয়ারি তার ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। তার এ সফরে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আর ঢাকার পক্ষ থেকে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রপ্তানি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার, জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালসহ একাধিক বিষয় প্রাধান্য পাবে।

জানা গেছে, সম্প্রতি শাহীনবাগে ‘মায়ের কান্না’ সংগঠনের এক বাসায় যাওয়ায় ঢাকার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূতকে ডেকেছিলেন তিনিই। ডোনাল্ড লু ৩০ বছরের ওপর মার্কিন প্রশাসনে কাজ করছেন। ২০২১ সালে বর্তমান দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি কিরগিজস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তারও আগে তিনি আলবেনিয়ায়ও রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ২০১০ থেকে ’১৩ সাল পর্যন্ত ভারতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এই কূটনীতিক।

ডোনাল্ড লুর সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সরকারের তিন মন্ত্রী আলোচনা করেছেন। গত রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত হয় রুদ্ধদ্বার এক বৈঠক। ওই বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংস্থার মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকেই ডোনাল্ড লুর সফরের বিষয়টি উঠে আসে। সেখানে ঢাকার রাষ্ট্রদূতের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠক থেকে আইনের শাসন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার মোকাবিলায় একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়।

সফরটি দ্বিপক্ষীয় জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, দ্বিপক্ষীয় সব বিষয় এতে আলোচনা হবে। যুক্তরাষ্ট্র তার অগ্রাধিকার বিষয়গুলোর মধ্যে মানবাধিকার, গণতন্ত্র, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পাশাপাশি শ্রম অধিকার, দরপত্র প্রতিযোগিতায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির বিষয়গুলোতে আলোচনা করবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জিএসপি পুনর্বহাল, শান্তিরক্ষা ও প্রতিষ্ঠা, প্রতিরক্ষা, জলবায়ু, রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে।

এ ছাড়া ঢাকা সফরে ডোনাল্ড লুর সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।