শাটলে সংঘাত, গুরুতর আহত ১

শাটল ট্রেনে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত তিন থেকে চারজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বগিভিত্তিক সংগঠন সিক্সটি নাইন এবং ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স) গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় রেলস্টেশন এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা সোহরাওয়ার্দী হল ও শাহজালাল হল পর্যন্ত গড়ায়।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মামুন ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মোহাম্মদ মানিক, উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শাহ পরান। এদের মধ্যে মামুন ও মানিক সিক্সটি নাইন গ্রুপের এবং শাহ পরান ভিএক্স গ্রুপের কর্মী। শাহ পরানের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছে।

গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় চবির প্রক্টরিয়াল বডির অনুরোধে দুই পক্ষ নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান। সংঘর্ষে জড়ানো দুই গ্রুপের নেতাকর্মী সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী বলে জানিয়েছেন ভিএক্স গ্রুপের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয়।

সিক্সটি নাইন গ্রুপের নেতা ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শাটল ট্রেনে দুই জুনিয়রের মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় গ্রুপের নেতারা বসেছি। পরিস্থিতি এখন শান্ত। সংঘর্ষে কেউ হতাহত হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভিএক্স গ্রুপের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় গতকাল রাত ১১টার দিকে বলেন, রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাতাহাতিটা হয়েছে উভয় গ্রুপের দুই জুনিয়রের মধ্যে। এটা আসলে ভুল বোঝাবুঝি। শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় গ্রুপের নেতারা বসে আলোচনা করছি।

এদিকে ঘটনার পরে চবি ক‍্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেলস্টেশনে কোনো একটা বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে মারামারি হয়। পরে তা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল চোড়ার ঘটনা ঘটে।

এদিকে চবি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে একাধিকবার মোবাইলে কল করা হলেও রিসিভ করেননি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভুঁইয়া।