সাত্তারকে সুবিধা দিতে সরলেন জাপার সাবেক এমপিও

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সামনে রেখে একের পর এক নাটকের জন্ম হচ্ছে। সর্বশেষ জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত দুইবারের সংসদ সদস্য এবং এবারের নির্বাচনে ‘হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী’ অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

মৃধা তার সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে সেই বক্তব্য ফেইসবুক মেসেঞ্জারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাতে জিয়াউল হক মৃধা বলেছেন, ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। প্রচার-প্রচারণার সময় খুব কম। পরবর্তী নির্বাচনের সময়ও খুব কাছে। এত অল্প সময়ে জনগণের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব হবে না। আমি দুবার এমপি হয়ে অনেক উন্নয়ন করেছি। বিগত সংসদ সদস্য কিছুই করেননি। যা-ই হোক, নির্বাচনের যে সময় আছে এবং নির্বাচিত হলেও জনপ্রত্যাশা পূরণ করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। আমি জনগণকে মিথ্যা প্রলোভন দিতে পারব না। তাই আমি এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। তবে জনগণের ভালোবাসা ও সহায়তা নিয়ে আগামী বছরের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করব।

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়ে লিখিত চিঠির ব্যাপারে তার মোবাইলে বারবার ফোন করেও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার ছেলে বিদ্যুৎ মৃধা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা চিঠির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তারাও চিঠির বক্তব্যের সঙ্গে একমত। জিয়াউল হক মৃধা জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাপার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে উপনির্বাচনের আলোচনা শুরু হয়েছিল বিএনপির সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার ভূঞার নাটকীয় পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। তিনি এ আসনের বিএনপির চারবারের সংসদ সদস্য এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার পদ থেকেও পদত্যাগ করেন।

নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উকিল আবদুস সাত্তারের পক্ষে মনোনয়নপত্র কিনলে দ্বিতীয় নাটকের সৃষ্টি হয়। তৃতীয় নাটক: জাতীয় পার্টির দুইবার প্রার্থী বদল। এ আসনে উপনির্বাচন ঘোষণা করা হলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না দিয়ে চতুর্থ নাটকের জন্ম দেয়। পঞ্চম নাটক: গত শনিবার ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মঈনউদ্দিন মঈন, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু সশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ষষ্ট নাটক: স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির নেতার লিখিত বক্তব্য দেওয়া।

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুস সাত্তার ভূঞা বিজয়ী হন। গত ১১ ডিসেম্বর আবদুস সাত্তার ভূঞা পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি এ আসনে উপনির্বাচন হবে। উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবারও অংশ নিতে যাচ্ছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত উকিল আবদুস সাত্তার ভূঞা। তিনি এই আসনে ৫ বার সংসদ সদস্য ছিলেন। প্রথমবার স্বতন্ত্র ও পরের চারবার বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। এবার বিজয়ের পথে তিনি, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। আলোচনা আছে, আওয়ামী লীগের সুপ্রিম কমান্ড চায় আবদুস সাত্তার ভূঞা এমপি নির্বাচিত হোন। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলেছে, জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে দলের হাইকমান্ড সাত্তারের পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে।

এখন নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন উকিল আবদুস সাত্তার ভূঞা (কলার ছড়ি), আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু আসিফ আহমেদ (মোটর গাড়ি), জাকের পার্টির জহিরুল ইসলাম জুয়েল (গোলাপ ফুল), জাতীয় পার্টির মো. আবদুল হামিদ (লাঙল)। আবু আসিফ আহমেদ কিছুটা সাড়া ফেলতে পারলেও জাপা ও জাকের পার্টির প্রার্থী তেমন সাড়া ফেলতে পারবেন না বলে ধারণা ভোটারদের ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের।