চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় ২০ দিনে ৩৫টি দোকান চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোর নিয়ে গিছে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও বিভিন্ন ধরনের মালামাল।
সরেজমিনে জানা যায়, গত ২৭ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ মার্কেটে ১০টি ও জনতা মার্কেটে ৫টি দোকানে চুরি হয়। এর এক দিন পর ২৮ ডিসেম্বর সারিকাইত ইউনিয়নের শিবেরহাটে চুরি হয় ৮ দোকানে। ১১ জানুয়ারি হারামিয়া ইউনিয়নের চৌমুুহনী বাজারে ৩টি ও হরিশপুর ইউনিয়নে চুরি হয় ১টি দোকানে। ১৪ জানুয়ারি শিবেরহাটে আবারও চুরি হয় ৭টি দোকানে। সর্বশেষ ১৭ জানুয়ারি রাতে সন্দ্বীপের প্রাণকেন্দ্র সেনেরহাটে দোকানে ঘটে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা।
সেনেরহাটে চুরি হওয়া মেসার্স সেলিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী এ টি এম সেলিম বলেন, ‘আমার দোকান সন্দ্বীপের প্রধান সড়কে। রাত-দিন এই সড়কে মানুষের আসা-যাওয়া থাকে। তারপরও চোরেরা দোকানের তালা এবং লকার ভেঙে তিন লাখ টাকা নিয়ে গেছে।’
সারিকাইত ইউনিয়নের শিবেরহাটে ঘটেছে দুই দফায় ১৫টি চুরির ঘটনা। চুরি হওয়া দোকানের মালিকেরা জানান, চোরেরা রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রতিটি দোকানেই সামনের তালা ভেঙে প্রবেশ করেছে। নিয়ে গেছে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মালামাল। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, শিবেরহাট সন্দ্বীপের বড় বাজারগুলোর অন্যতম হলেও নেই কোনো নির্বাচিত বাজার কমিটি। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে দুজন ব্যক্তি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদ দখল করে থাকলেও ব্যবসায়ী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা দিতে কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছেন না।
এতগুলো চুরির ঘটনা ঘটায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের নাদিম বলেন, চুরির কারণে প্রবাসীরা বেশ অতিষ্ঠ। চুরি কোনোমতেই ঠেকাতে পারছে না পুলিশ। কয়েকটি ঘটনায় চোরকে গ্রেপ্তার করলেও কয়েক দিন পর জামিনে এসে আবারও চুরি করছে তারা।
সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলনের সভাপতি হাসানুজ্জামান সন্দ্বীপি বলেন, ‘চোরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় কয়েক দিন আগে থানার ওসির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। চুরি বন্ধ না হলে জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠিসহ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
সন্দ্বীপ থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চুরির সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। একটি অটোরিকশা ও হরিশপুর ইউনিয়নে চুরি হওয়া দোকানের ৬০ হাজার টাকার চোরাই মাল উদ্ধার করেছি। টহল পুলিশ বাড়ানো হয়েছে।’
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট খীসা বলেন, গত বুধবার মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রতিটি বাজারে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো ও নিরাপত্তা প্রহরীদের আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলো নোটিস আকারে প্রতিটি বাজার কমিটির কাছে পাঠানো হবে। পুলিশের টহল আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চুরি ঠেকাতে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও।