৩০০ গাড়ি ভাঙচুর ৪ ঘণ্টার যানজটে নাভিশ্বাস

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় এক নিরাপত্তাকর্মী নিহতের ঘটনার পর তার প্রতিবাদে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রায় তিন শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর চালিয়েছে কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে প্রায় অর্ধশত পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রী আহত হয়েছে। এসময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় দুইপাশে প্রায় ১৫-১৬ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে ইজতেমাগামী মুসল্লিসহ পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। গতকাল রবিবার সকালে ওই মহাসড়কে ট্রাক চাপায় আজাদুল ইসলাম (৪৫) নিহত ও তিন শ্রমিক আহত হয়। এরপর থেকে মহাসড়কে বিক্ষোভ করতে থাকে শ্রমিকরা। ট্রাকটিতে আগুন দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে তারা। এরপর ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এলাকাবাসী, কারখানার শ্রমিক, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর ওই এলাকায় কোনো ফুটওভার ব্রিজ নেই। ফলে মাহমুদ জিন্স লিমিটেড, নুর গ্রুপের রাইয়ান নিট কম্পোজিট লিমিটেড, নাগ্ররাসহ কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ওই স্থানে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পার হন। প্রায় ওই স্থানে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন শ্রমিকসহ স্থানীয়রা। পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষ মহাসড়কের ওই স্থানের দুপাশে নিরাপত্তাকর্মী রেখেছে। প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে কারখানায় কাজে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন শ্রমিকরা। এসময় নিরাপত্তাকর্মীরা লাল নিশান উড়িয়ে যানবাহন থামানোর চেষ্টা করেন। এদের মধ্যে মাহমুদ জিন্স লিমিটেড কারখানার নিরাপত্তাকর্মী আজাদুল ইসলামও নিশান উড়িয়ে শ্রমিক পারাপার করছিলেন। এসময় তাদের নিশান উপেক্ষা করে পাথরভর্তি দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাকেসহ চারজন শ্রমিককে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিরাপত্তাকর্মী আজাদুল ইসলাম মারা যান।

পরে উত্তেজিত শ্রমিকরা ওই ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকের আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে উত্তেজিত শ্রমিকদের ইটপাটকেল নিক্ষেপের মুখে তারা চলে যেতে বাধ্য হয়। একপর্যায় উত্তেজিত শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ রেখে ছোট-বড় প্রায় তিন শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে। ঢাকা-টাঙ্গাইল ও চন্দ্রা-নবীনগর দুটি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ১৫-১৬ কিলোমিটার তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শ্রমিকরা দুর্ঘটনা স্থানে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।

মাহমুদ জিন্স লিমিটেড কারখানার সিকিউরিটি ইনচার্জ আবু তাহের ফারুকী জানান, সকালে শ্রমিক পারাপারের দায়িত্বে ছিলেন আজাদুল। এসময় একত্রে শ্রমিকরা মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। সিগন্যাল দিলে যানবাহন থামলেও ওই ট্রাকটি তাদের ওপর উঠিয়ে দেয়। এতে মাথা থেঁতলে গিয়ে ঘটনাস্থলেই আজাদুল মারা যান।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম জানান, যানবাহনে অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একপর্যায় তারা ধাওয়া দিলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ফিরে আসে।

সালনা (কোনাবাড়ী) হাইওয়ে থানার ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া উত্তেজিত শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করলে ৪ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে ঘাতক ট্রাকের চালক ও তার সহযোগী পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা যায়নি।