রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাইলেন সিইসি

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পিকারের সাক্ষাৎ চাওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এ সপ্তাহেই স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এ বিষয়ে গতকাল সাংবাদিকদের জানান, তার সঙ্গে সিইসির সাক্ষাতের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে সংসদ সচিবালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সিইসির সাক্ষাতেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিস্তারিত শিডিউল নিয়ে আলোচনা হবে। যেদিন ভোটের তারিখ হবে ওই দিন একটি বৈঠকের সময় ঠিক করা হবে। ওই বৈঠকে নির্বাচনী কর্তা (সিইসি) সভাপতিত্ব করবেন। যদি রাষ্ট্রপতি পদে একাধিক প্রার্থী থাকেন তাহলেই কেবল ওই বৈঠকে বসার প্রয়োজন পড়বে। আর একক প্রার্থী হলে সেটার দরকার হবে না। নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী একক প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবে।

এজন্য সংসদ অধিবেশন বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য কোনো অধিবেশনের প্রয়োজন পড়বে না। সংসদের একটি বৈঠকের প্রয়োজন পড়বে।

একাদশ সংসদের চলমান ২১তম অধিবেশন আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে।

সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীর জামানত দ্বিগুণ : জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থীদের জামানত দ্বিগুণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আগে ১০ হাজার টাকা জামানত নেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি। সেই সঙ্গে শূন্য আসনে নির্বাচনের সময় ৪৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৯০ দিন করা হচ্ছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশন বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে আইনের বেশ কয়েকটি ধারা ও অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশন। যার ফলে সংরক্ষিত নারী প্রার্থীদের জামানত বেড়েছে দ্বিগুণ। জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী আইনের কয়েকটি অনুচ্ছেদ ও ধারায় সংশোধনের প্রয়োজন ছিল উল্লেখ করে ইসি সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সংবিধানে নারী আসন ৪৫টি থেকে বাড়িয়ে ৫০টি করা হয়েছে। নির্বাচনী আইনে এখনো ৪৫টি আছে। তাই আইনের ৪৫ থেকে ৫০টি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যমান আইনে সময় নির্বাচনের সময় ছিল ৪৫ দিন। সাধারণ আসনে নির্বাচনের সময় ৯০ দিন। সেটার অনুরূপ করা হয়েছে। অন্যদিকে নারী আসনে প্রার্থীদের ১০ হাজার টাকা জামানত ছিল। সাধারণ আসনের মতো ২০ হাজার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার বেগম রাশেদা সুলতানার নেতৃত্বাধীন আইন সংস্কার কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কমিশন সভায় বিষয়গুলো অনুমোদন হয়েছে। এখন এটা আইন মন্ত্রণালয়ে এখন পাঠানো হবে। সেখান থেকে তারা কেবিনেটে পাঠাবেন। তারপর সংসদে যাবে। এরপর পাস হবে। আইনটি পাস না হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্পিকারের সঙ্গে সিইসির বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করব।