কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। এ বছর মৌসুমের শুরুতে প্রচন্ড শীত ও কুয়াশা সত্বেও ধানের বাজার ভালো থাকায় কৃষকের মধ্যে ধান চাষে উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। তবে গত এক সপ্তাহ ধরে হাওরাঞ্চলের আটটি উপজেলায় লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় চাষিরা কিছুটা হতাশ। এতে চলতি মৌসুমে বোরো আবাদে কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী এ চারটি উপজেলা সম্পূর্ণ হাওর অধ্যুষিত। এছাড়া বাজিতপুর, করিমগঞ্জ, ভৈরব ও তাড়াইলের কিছু অংশে হাওর রয়েছে। এসব উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩৮৫ হেক্টর। এ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫৫ হেক্টরে। এদিকে বোরো চাষ শুরু করার ১৫ দিনের মধ্যেই বিদ্যুতের ব্যাপক লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাত থেকেই সেচপাম্প চালু রেখে ড্রেন দিয়ে ফসলের মাঠে পানি সরবরাহের চেষ্টা করছেন পাম্প অপারেটররা। কিন্তু নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম। দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সেচ কার্যক্রম বিঘিœত হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেন কৃষকরা।
করিমগঞ্জ উপজেলার গুনধর ইউনিয়নের কদিমাইজ হাটি গ্রামের কৃষক ও সেচপাম্প অপারেটর জুয়েল মিয়া বলেন, আমার সেচস্কিমে কৃষকের প্রায় ৭০ একর বোরো জমি রয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ২৪ ঘণ্টাই সেচপাম্প চালু রাখতে হচ্ছে, কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে এবার বোরো আবাদ ব্যাহত হতে পারে।
কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক মো. জুলফিকর বলেন, সেচ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় হঠাৎ করেই বিদ্যুতের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দৈনিক ৬৬ মেগাওয়াট চাহিদা থাকলেও বেশ কিছুদিন ধরে আমরা চাহিদার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাচ্ছি। এজন্য প্রতিদিন লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দুটি কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বেশকিছু ইউনিট বসে গেছে। আবার আশুগঞ্জসহ বেশকিছু জায়গায় পাওয়ার স্টেশন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। এসব কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। এক মাসের মধ্যে সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের উপ-পরিচালক আরুর বলেন, জেলার হাওরবেষ্টিত আটটি উপজেলায় চাষিরা গত এক সাপ্তহ আগে বোরো ধান লাগানো শেষ করেছে। তবে কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অন্যতম প্রধান শর্ত। সময়মতো জমিতে সেচ দিতে না পারলে বোরো চাষ ব্যাহত হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তবে তার আশা, শিগগিরই বিদ্যুতের সংকট কেটে যাবে।