জেএসএসের সুবর্ণজয়ন্তী

চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ে উগ্রবাদ জঙ্গিবাদ

পাহাড়ের অসন্তোষ দূর করতে শুরু থেকে রাজনৈতিক সমাধান চেয়েছিলেন এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতারা। ফলে তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গঠিত বাকশালেও যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত তার সমাধান হয়নি। আজকে পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় উগ্রবাদ-জঙ্গিবাদ বিস্তার লাভ করছে। পার্বত্য শান্তি চুক্তি ঠিকমতো বাস্তবায়ন হলে এর একটিও ঘটত না। রাজধানীতে এক আলোচনায় সভায় বক্তাদের কাছ থেকে এমন অভিমত এসেছে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন ও আলোচনা সভায় বক্তারা এ অভিমত জানান।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার চাইতে গিয়ে কখনো সংবিধান বা নিয়মতান্ত্রিকতার বাইরে যায়নি। রাজনৈতিকভাবে তাদের সমস্যার সমাধান চেয়েছে। বাকশাল নিয়ে অনেক বিতর্ক ছিল। কিন্তু এমএন লারমা একটি আশা নিয়ে সেখানেও গিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিল সংবিধানিকভাবে এর সমাধান হবে। কিন্তু কখন তারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন, যখন জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক সমাধান চেয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, পাহাড়ে আশান্তি মানে সারা দেশের অশান্তি। পাহাড়ে এখন উগ্রবাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের তরুণরা সেসবের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাই পাহাড়িদের পাশাপাশি দেশের জন্য পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মেসবাহ্ কামাল বলেন, জাতিসত্তার পরিচয় আর নাগরিকত্বের পরিচয় দুটো আলাদা। পাহাড়িরা তাদের জাতিসত্তার পরিচয় চেয়েছিল। তারা কখনো দেশদ্রোহী ছিল না। পাহাড়িরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছে। অনেক শাসক প্রমাণ করতে চেয়েছে তারা দেশদ্রোহী বা সন্ত্রাসী। কিন্তু দেশপ্রেমের পরীক্ষায় পাহাড়িরা যারা রয়েছেন তারা পাস করেছেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, শাসকরা বাধ্য হয়েছিল পার্বত্য চুক্তি করতে। কিন্তু এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যে কাজগুলো করা দরকার বলে আমরা একাধিকবার বলেছি, রাষ্ট্র কি সেই বিবেচনা করছে? যে দলটি এই চুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল তারা কি সেই চুক্তি মেনে নিয়েছে? যারা চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের কি এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। সেটা হয়নি। সেটা যদি না হয়ে থাকে তাহলে এই চুক্তি কাগুজে বাঘের মতোই থাকবে।

লেখকও সাংবাদিক আবু সাইদ খান বলেন, আদিবাসীদের অধিকার আদায়ের যে লড়াই এটা শুধু পার্বত্য চট্টগ্রামের লড়াই না। এটা আমাদের সবার লড়াই। তাদের একার লড়াই না। এটা বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের অংশ। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে জবরদস্তিমূলক শাসন রেখে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

আলোচনা সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরা সভাপতিত্ব করেন। এতে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, ঐক্য ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ তারেক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহসাধারণ সম্পাদক গজেন্দ্র নাথ মাহাতো প্রমুখ।