আমীরুল ইসলামের ছড়া

মা

যখন আমার চতুর্দিকে

জ্বলে বিষের আগুন,

কৃষ্ণচূড়ার লালে লালে

যখন আসে ফাগুন।

তখন মায়ের মুখ,

দেয় ভরিয়ে বুক।

যখন আমি নীল-হতাশায়

শূন্য-আচ্ছাদিত,

মা আমাকে কোলের মধ্যে

ঠিক জড়িয়ে নিতো।

মা মানে তো মাতা

মাথার ওপর ছাতা।

মা মানে তো ভালোবাসার বাড়ি

মনে পড়ে মায়ের রঙিন শাড়ি।

যখন বুকে কষ্ট জমে

দুচোখ জুড়ে ঘৃণা

মা বলতেন, কাউকে কিন্তু

কিচ্ছুটি বলবি না।

মা তো আমার দেবীর মতো

নীল আকাশের পরী-

যখন ছড়া হয় না লেখা

মাকে স্মরণ করি।

ছড়া

আমরা সবাই মিথ্যা কথার রাজা

শরীর-মোটা তাজা।

আমরা সবাই ভণ্ড প্রতারক

সহজ কথায় ঠক।

বই

দামি দামি বই কিনেছি

করেছি সংগ্রহ

আর কিছু নয়, আর কিছু নয়,

বইয়ের প্রতি মোহ।

ঘরে অনেক ইঁদুরছানা

কাটুর কুটুর কুট

বইয়ের প্রতি মোহ তাদের

বই যেন বিস্কুট!

আমীরুল

আমীরুল কথা শোন, আর কত ঘুরবি

কতোদিন ডালে ডালে ঘুরে ঘুরে উড়বি?

নিজের আগুনে তুই কতো আর পুড়বি?

ধীরে ধীরে এইবার হও ধীর শান্ত

জীবনের অপচয় করে তুমি ক্লান্ত

অতিদ্রুত ক্ষয়ে যাবে কেউ সেটা জানতো?

টাকা যদি থাকে তবে আকাশেতে উড়তি

প্রতিক্ষণ প্রতিদিন করে গেলে ফূর্তি

সংসার করলে না, যেন এক মূর্তি।

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্তিতে

পুরস্কার পাওয়ার পরে

বুঝতে পারি হায় রে

এর তো কোনো মূল্যই নাই

দিন চলে যায় যায় রে!

মহাকালের গর্ভে আমার

কী বা এমন মূল্য?

কেউ পড়ে না লেখা, আমার

জীবদ্দশায় ভুলল।

পুরস্কার পাওয়ার পরে

বুঝছো ভায়া বুঝছো

বুঝতে পারি আমার লেখা

তুচ্ছ অতি তুচ্ছ।