যুক্তরাষ্ট্রের তিন ব্যাংকের পর এবার ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডের শক্তিশালী ক্রেডিট সুইস ব্যাংকেও দেখা যাচ্ছে বিপর্যয়। ক্রেডিট সুইস ব্যাংকের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে যে কোনো সময়। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন গত শনিবার এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত হয়ে যেতে পারে। রবিবার এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ করতে এগিয়ে এসেছে সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইউবিএস এজি। তবে প্রতিষ্ঠানটি এই ব্যাংক কিনতে সরকারের কাছে ৬ বিলিয়ন ডলারের নিশ্চয়তা চেয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ বিষয়ক আলোচনার সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ইউবিএস সরকারের কাছে ৬ বিলিয়ন ডলারের গ্যারান্টি চাইছে। একটি সূত্র সতর্ক করে জানিয়েছে, ক্রেডিট সুইসের আস্থার সংকট সমাধানের জন্য আলোচনা উল্লেখযোগ্য বাধার সম্মুখীন হচ্ছে এবং দুই ব্যাংক একত্র হলে ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই হতে পারে। সোমবার শেয়ার বাজার আবার খোলার আগে সুইস নিয়ন্ত্রকরা ক্রেডিট সুইসের জন্য একটি সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আলোচনা গড়ায় গতকাল রবিবারেও।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি এবং সিগনেচার ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ক্রেডিট সুইসে বিরূপ প্রভাব পড়ে। এরপর গত মঙ্গলবার ক্রেডিট সুইস ব্যাংক নিজেই বিপর্যয়ের খবর দেয়। এদিন নিজেদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ আর্থিক সংস্থাটি। ১৬৭ বছর পুরনো ব্যাংকটি স্বীকার করে তাদের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি আছে। ব্যাংকটি আরও জানায়, তারা তাদের ঝুঁকিগুলো পরিপূর্ণভাবে ধরতে পারেনি।
এ প্রতিবেদন প্রকাশের পরের দিন সৌদি ন্যাশনাল ব্যাংক পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেয় ক্রেডিট সুইসে আর কোনো বিনিয়োগ করবে না তারা। ব্যাংকটির ১০ শতাংশ মালিকানা কিনে নেওয়ার অংশ হিসেবে সৌদি ন্যাশনাল ব্যাংক গত বছর ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করে। সৌদি ব্যাংকটির এ সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীরা ভীত হয়ে পড়েন। বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যাংক জেপিমরগ্যান গত বৃহস্পতিবার এক মন্তব্যে জানায়, এ অচলাবস্থা কাটানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলোÑ ক্রেডিট সুইসকে ইউবিএস ব্যাংকের অধিগ্রহণ করা। বিপর্যস্ত ক্রেডিট সুইস ব্যাংককে অধিগ্রহণ করলে ইউবিএস ব্যাংক এটির কার্যক্রমের ইতি টানবে।