কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী

রাজধানীতে কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার তামান্না (২৭)। গত শুক্রবার কলাবাগান এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় ইফতারের দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে রাত ১০টার দিকে লালবাগ বেড়িবাঁধে শামীম গার্মেন্টসের সামনের রাস্তায় কাভার্ড ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

পুলিশ জানিয়েছে, তামান্নার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ওয়াসেকপুরে। তার বাবার নাম আবু তাহের। তিনি একসময় সৌদি আরবে থাকতেন। বর্তমানে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তামান্না ছোট।

লালবাগ থানার ওসি এস এম মুর্শেদ জানান, রাতে বেড়িবাঁধ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীকে বহনকারী ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলের (রাইড শেয়ারিং) ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলসহ ছিটকে পড়লে ওই কাভার্ড ভ্যানের নিচে পৃষ্ট হন তিনি। পরে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই কাভার্ড ভ্যানটি চালকসহ জব্দ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।

তামান্নার বড় ভাই সায়েম জানান, তার বোন শুক্রবার কলাবাগান এলাকায় এক আত্মীয়র বাসায় ইফতারের দাওয়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে রাতে রাইড শেয়ারিংয়ের মোটরসাইকেলে কামরাঙ্গীরচরে বাসায় ফিরছিলেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলটি লালবাগ বেড়িবাঁধে পৌঁছালে একটি কাভার্ড ভ্যান ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা তামান্না ছিটকে পড়েন। এ সময় তার মাথার ওপর দিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি চলে যায়। পরে স্থানীয়রা ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে তিনিসহ পরিবারের লোকজন হাসপাতালে ছুটে যান। মোটরসাইকেল চালক সামান্য আহত হয়েছেন।

সায়েম বলেন, ‘তামান্না আমাদের দুই ভাইয়ের একমাত্র বোন। খুব আদরের। কাভার্ড ভ্যানের চালকের বেপরোয়া গতির কারণে আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। বোনকে হারিয়ে ফেললাম আমরা। মা কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। বারবার বলছেন, মেয়েকে ফিরিয়ে এনে দিতে। কেন ইফতারের অনুষ্ঠানে যেতে নিষেধ করেননি সে জন্য নিজেকে দোষারূপ করছেন মা।’ তামান্নার মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, গতকাল শনিবার বিকেলে লাশ নিয়ে তারা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

বরিশালে মোটরসাইকেল-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ১ : বরিশাল নগরীতে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ফারদিন গাজী (১৮) নামে একজন নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর বেলতলা ইসলামিয়া কলেজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তার আহত দুই সঙ্গী ইমন ও রায়হানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নগরীর ভাটিখানা এলাকার মুন্সীবাড়ির এনামুল হক গাজীর ছেলে ফারদিন গাজী।

প্রতিবেশীরা জানান, বাবা তার সন্তানের আবদার পূরণ করতে দুই মাস আগে একটি মোটরসাইকেল কিনে দেন। শুক্রবার দুপুরের দিকে দুই সঙ্গী ইমন ও রায়হানকে নিয়ে সদর উপজেলার তালতলী বাজারের উদ্দেশে রওনা করে ফারদিন। পথে ইসলামিয়া কলেজ এলাকায় অটোরিকশার (ইজিবাইক) সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে অটোর সামনের গ্লাস ভেঙে ফারদিনের মাথার ভেতর ঢুকে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কিছুক্ষণ পর ফারদিনের মৃত্যু হয়।

কাউনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজিত জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

কুলাউড়ায় রাস্তায় পড়েছিল ব্যাংক কর্মকর্তার মরদেহ : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় হৃদয় ছত্রী নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে কুলাউড়া-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের হলিছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই মহাসড়কের ওপর পড়েছিল তার লাশ। নিহত হৃদয় ছত্রী কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের পাত্রখোলা এলাকার কংকন ছত্রীর ছেলে।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে কুলাউড়া-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হলিছড়া এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহীর রক্তাক্ত লাশ রাস্তার ওপর পড়েছিল। এ খবর স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে জানালে তাদের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. সোলায়মান আহমদের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার লাশ উদ্ধারের পর থানায় হস্তান্তর করে।

ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মো. সোলায়মান আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে তা জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে নিহতের তথ্য পাওয়া গেছে। নিহত হৃদয় ছত্রী সিলেটের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। তিনি গতকাল সকালে কমলগঞ্জ থেকে কুলাউড়া হয়ে সিলেটে তার কর্মস্থলে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।

কুলাউড়া থানার ওসি মো. আবদুছ ছালেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, বৃষ্টিতে সড়ক ভেজা থাকায় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কোনো গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।