মাসুদ মুস্তাফিজের কবিতা

ধানসমুদ্দুরে গাছবিষাদ

ভাবনার ইচ্ছে ছায়া হয়ে উড়ে যায় জাতিসংঘের দৃশ্যফটকে

সমুদ্রকে ফিরিয়ে দেবো বলে যে সমস্ত প্রবাল সারারাত ডেকেছে

আমি ঘুম থেকে জেগে উঠি পুনর্যোজিত

রাত ও সকালের মুগ্ধতায় দিশেহারা চাঁদের নবীন অন্ধকার

দূর পথে সমুদ্রের ধুলো আর বিভ্রম

কোনো আবালেক কবি বাঙলা কবিতার বিশ্বাসে ঢুকে পড়েছেন

অমৃত চুরির দেবদূত হয়ে

তোমাকে বলছিলাম, আমার বাঁকানো নখে

বটগাছের নিচে ক্লান্তিকর্ষিত এইসব বুদবুদ ঘুম ভেঙে আর কতো সুখ!

চলো মূর্ততা আর শূন্যতার আকাশে স্বর্গের গাছ রোপণ করি সেই স্বর্গ গাছবিষাদের

নির্জনতায় বিশ্ব বাঙলা কবিতার পতাকাতলে ইউক্রেন যুদ্ধ নিশ্চয়ই থেমে যাবে একদিন!

সম্পর্কের গণিত

পড়শিপ্রেম থেকে ঋণের অভ্যেস

হিশেবের খাতা ভর্তি হয় অঙ্কের মার্জিনে

পড়শি মানে ঘর

পড়শি মানে নরোম কাচ

পথে পথে ভয় ও সমন্বয় পড়ে থাকে অজুকালে

একাকী জীবনের গভীর মধুরতা বিলোবে কাকে?

বিধুর দ্বন্দ্বে রাস্তা পার হই

এই তো জীবনগণিত

হয়তো একদিন ঐ সম্পর্কের পেরেক মারা অদৃশ্য কাচ

আর পাঁচিল ভেঙে সূর্যপ্রলয় হবে

আমাদের আগামী শীতঅরণ্যের বিবাহিত দিনগুলো সম্পর্কের গণিত হয়ে উঠবে!

গান থেমে আসছে রাত

মধ্যরাত। সময় ক্রমে নত হয়ে গ্যালো

সময় বলেই অবলীলাভারে রাতের অসীম ধুমল গ্লেসিয়ারে

বিমর্দিত স্তনের চোখ আমাকে শাসায়

একি আমার নিঃশ্বাসের আগুন আর তুমি অপলক চাঁদ

থির বিজুলিতে জন্ম নিচ্ছো দুর্বিনীতাশ্ব ভেতর শিশ্নসত্য

‘কাকে তুমি ভালোবাসো সবচেয়ে বেশি হেঁয়ালি মানব’?

আমি ভালোবাসি আশ্চর্য মেঘদল ভালোবাসি বোদলেয়ারের রিয়েলিজম হাসি!

মাছ

মাছের স্বর্গনরক বাজার পর্যন্তই

ক্রমাগত নিঃশ্বাসপতন শেষে তাই

নদী ও সমুদ্রের সরল প্রতিশ্রুতি ভাঙে

মধুরতা পাওয়া অকাল মাছের জীবন