আত্মপ্রত্যাহার
কাউকে বলি নি, সরে আসি শর্করা থেকে। ছাই ঝেড়ে
হাঁটছি আবার। কেননা অগ্নিকাণ্ড শেষ হলো।
কেননা, আবার উঠছে জেগে ক্লোরোফিল, মেঘের মহিমাসহ,
বাষ্পাকুল হ্রদ ঘিরে। হাওয়া থেমে আছে দূরের পাহাড়ে;
তবু এই রহস্যে বর্তুল পথে আসে ঘুমন্ত উদ্ভিদের ঘ্রাণ
আর ইন্দ্রিয়পীড়িত রাত্রির পতঙ্গ এলোমেলো ওড়ে।
কাউকে বলি নি, কিচ্ছু না, কোনো সাক্ষ্য পাবে না,
সন্ধ্যার অগ্নিস্তম্ভ মুছে, শস্যবীজ, পানপাত্র, চুম্বন...
রাত্রির গর্ভে নয়, কম্পিত অপরাহ্নে কিংবা সূর্যাস্তগামী
রাস্তায়ও নয়, মৃতদের কাছে সব গচ্ছিত রেখে
ডুব দেবো দগ্ধনীল ট্রমার ভিতরে...
আহা, পেনিলোপি
যে বস্ত্র বুনেছিলে, তাও আজ খণ্ড খণ্ড হয়ে উড়ে যায়
অনিদ্রার দিকে, সমুদ্রলাঞ্ছিত হাওয়ায়
সেই শব্দ স্নায়ুতে রয়েছে গেঁথে
বাঁশি ও বিলাপে, তমসায়
তোমার উলঙ্গ প্রতিবিম্ব তুমি দেখেছিলে
ঢেউয়ে, ভেঙে যেতে... করুণায়
নৈকট্যের আগে
এই রাস্তা চলে গেছে স্বপ্নসম্ভব সন্ধ্যার দিকে, যাবে নাকি?
ঘুমের ভিতর থেকে অশ্রুত স্বর আসে, চলো জাগরণে যাই,
চলো, বুনোফুলের গন্ধ জড়িয়ে স্নায়ুর কিনারে দাঁড়াই
চুম্বনে আড়ষ্ট গ্রীবা উহ্য থাক, অনিদ্রাপীড়িত রাত রাখি দূরে,
রৌদ্রসংকুল হাওয়ায়, তাকিয়ো না তুমি আমার বিপন্ন মুখে,
ঢুকতে চেয়ো না হৃৎপিন্ডের নিঃসঙ্গ গভীরে আমি আছি,
এই রাস্তা যতদিন গোধূলির দিকে, জলাশয় তীরে
থামবে না। যাবে নাকি? এই রক্তের ক্রন্দন, সীমাবদ্ধ ভূমি
ছেড়ে? এসো, দ্যাখো, পাখি উড়ে যায় ডুবন্ত সূর্যের দিকে
নৈকট্যের পর
এইবার যেতে পারো তুমি, বনের মর্মে, মেঘে
রাত্রিগামী নদীটির বাঁক ঘেঁষে দাঁড়িয়েছি বহুবার,
অপেক্ষা করেছি ছাইয়ের পাহাড় কখন
আগুনের ভ্রমে ঢুকে যায়, কখন সে ফিরে আসে
শরীরের রূপে! তখন দেখেছি তুমি আসো,
নাকি আসো নাই? অসম্পূর্ণ চুম্বনের পর
যেমন প্রেমিক নিভে যাওয়া লণ্ঠনের নীরবতা নিয়ে
নিজেকে জিজ্ঞাসা করে, দহনবাহিত এই দেহে
জাগিয়েছ কাকে? ‘আরেকবার চাই’ বলে
আমি তাকাই তোমার দিকে, ওহো কম্পিত পাহাড়,
সমুদ্রহাওয়া, মুছে যাচ্ছে দেখো সূর্য ও পৃথিবী;
এই শেষবার, জেনো, সব স্পর্শ বাতাসে খোদাই করে
এই দেহ আজ শূন্যতাসঙ্কুল; মৃতদের গানে ভর দিয়ে
আজ তাই মুছে যেতে চাই সূর্যাস্তের আগে