বনজ কুমারের মামলা

সাবেক এসপি বাবুল সাংবাদিক ইলিয়াসের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় প্রবাসী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন ও পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারসহ চার জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। তবে বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলায় সাংবাদিক ইলিয়াস পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত অন্য দুই আসামি হলেন বাবুল আক্তারের ভাই মো. হাবিবুর রহমান ও বাবা মো. আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া।

গতকাল বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ছয় মাস তদন্ত শেষে গত ৯ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। আজ ২৭ এপ্রিল মামলার ধার্য তারিখ। আজই আদালতে চার্জশিট উপস্থাপন করা হবে। এ মামলার বিচার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে অনুষ্ঠিত হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, আসামি ইলিয়াস তার ফেসবুক, ইউটিউব চ্যানেল থেকে এসপি বাবুল আক্তারের অডিও কথোপকথন ফাঁস করেন। বাবুল আক্তারের ভাই হাবিবুর রহমান ও বাবা আব্দুল ওয়াদুদ মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে বাবুল আক্তারের মুক্তি চেয়ে মানহানিকর তথ্য প্রদান করেন। আসামি বাবুল আক্তারের সহযোগিতায় ওই সব তথ্য-উপাত্ত আসামি ইলিয়াসের কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে আসামি ইলিয়াস অডিও তথ্য ফাঁস করেন।

মামলার এজাহারে যা ছিল : গত ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় মামলাটি করেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার। মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে অভিযোগ আনা হয়। ওই বছরের ১০ নভেম্বর বাবুল আক্তারকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় বাবুল আক্তারের ভাই হাবিবুর ও বাবা ওয়াদুদ জামিনে রয়েছেন। তবে সাংবাদিক ইলিয়াস পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার বলেন, ‘আমার নেতৃত্বে তদন্ত সংস্থা পিবিআই চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলা তদন্ত করছে। তদন্তকালে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলহাজতে থাকা বাবুল ও বিদেশে অবস্থানরত সাংবাদিক ইলিয়াসসহ বাকি আসামিরা মামলার তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চাইছেন। তারা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেন।’

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় ইলিয়াস গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর তার ফেসবুক আইডির মাধ্যমে একটি ডকুমেন্টারি ভিডিও ক্লিপ আপলোড করেন। এর আগেও মিতু হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে ইলিয়াস তার ইউটিউব চ্যানেল থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ইলিয়াসের ভিডিওতে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’  দেওয়া হয় ও বাবুলকে রিমান্ডে নির্যাতন করার অভিযোগ আনা হয়।