গুলিবিদ্ধ পাঁচ বছরের শিশু সন্তান মো. রাফি। দুই হাতে ব্যান্ডেজ। এক হাতে চলছে স্যালাইন। নাকে লাগানো হয়েছে নল। নিঃশব্দ, যেন নিথর দেহ। কিছুক্ষণ পরপর চোখ মেলে তাকাচ্ছে। কিন্তু কিছুই বলতে পারছে না। ছেলের পাশে বসে অঝোরে কাঁদছেন দিনমজুর বাবা আবদুর রহিম। চার দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে শিশুটি।
গত ২৩ এপ্রিল দুপুরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর-পশ্চিম ঘাটিয়াডেঙ্গা এলাকায় দাদার চা-নাশতার দোকানে গিয়েছিল চকলেট আনতে। এ সময় দুর্বৃত্তের গুলি নিষ্পাপ শিশুটির এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়।
গতকাল বুধবার দুপুরে চমেকের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে গেলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন রাফির বাবা আবদুর রহিম। তার প্রশ্ন, কী দোষ করেছিল তার ছোট্ট শিশুটি? কান্নাজড়িক কণ্ঠে দেশ রূপান্তরকে জানান, চার দিন ধরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে রাফি। কিছুক্ষণ পরপর চোখ মেলে তাকালেও কিছু বলে না। তাকে বাবা বলেও ডাকছে না। চিকিৎসকরা তাকে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে বলেছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২৩ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে দাদা শামসুল ইসলামের চায়ের দোকানে বসে ঠান্ডা পানীয় পান করছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক কামরুল ইসলাম। এ সময় কিছু দুর্বৃত্ত দোকানে ঢুকে কামরুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুুড়লে শিশু রাফি গুলিবিদ্ধ হয়। পাশাপাশি কামরুলও গুলিবিদ্ধ হন।
গুলিবিদ্ধ রাফিকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীরহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চমেক হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। গুলিবিদ্ধ কামরুল ইসলামও চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
শিশু রাফিকে গুলি করার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে তার বাবা আবদুর রহিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে তো কারও শত্রুতা নেই। তাহলে আমার বুকের ধনকে কেন তারা গুলি করল? সে কেন আজ হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে।’
সাতকানিয়া থানার ওসি মো. ইয়াসির আরাফাত জানান, শিশু রাফি এবং কামরুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরদিন নয়জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। সাংবাদিক কামরুল বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।