ঈদের পরও চড়া চিনি-মুরগির বাজার

নতুন করে রাজধানীর বাজারগুলোতে চিনির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আবারও কেজিতে দর বাড়ানো হয়েছে ৫ টাকা। আর সরবরাহ কমের অজুহাতে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। বর্তমানে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা করে, যা ঈদের আগের বিক্রি হয়েছিল ২৫০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করে উৎপাদনকারী ও পাইকাররা। তাদের থেকে যে দামে কেনা হয়, সেই অনুযায়ী সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করা হয়। পাইকার ও মিলার বা উৎপাদনকারীরা ইচ্ছামতো বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে থাকে।

সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শান্তিনগর, মগবাজার ও কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের পর বাজারে ভোক্তার তেমন একটা চাপ নেই। বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ ঠিক থাকলেও আগের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ, মুরগি থেকে শুরু করে সব ধরনের সবজি। প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২৬০, যা ঈদের আগে ছিল ২৪০-২৫০ টাকা। ৩৩০-৩৪০ টাকার লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৬০, কক মুরগি ৩৮০-৪০০, গরুর মাংস ৭৮০-৮০০, খাসি ১ হাজার ১০০ এবং ছাগলের মাংস ৯০০ টাকা।

ডিমের ডজনও ১০ টাকা বেড়েছে। ১৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া ডিমের ডজন পাইকারিতে ১৪০; যা খুচরা বাজারে গিয়ে ১৪৮-১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারের নিপা ব্রয়লারের স্বত্বাধিকারী মাসুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরবরাহ কম থাকায় সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে। পাইকার থেকে আমাদের কেনা বেশি পড়ায় ভোক্তার কাছেও চড়া দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা। সরবরাহ সংকটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

এদিকে চিনির বাজার ঘুরে দেখা যায়, গেল বছরে শুরু হওয়া চিনির সংকট এখনো কাটেনি। নতুন করে আবারও এ পণ্যের দাম বেড়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে প্রতি কেজি চিনিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। যা ঈদের আগে ছিল ১২৫-১৩০ টাকা। শান্তিনগর ও মগবাজারের অন্তত ১৫টি দোকান ঘুরে একটি দোকানে চিনি পাওয়া গেছে। বাকি দোকানিরা বলছেন, বারবার দাম বাড়ায় ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাগ্বিত-ার সৃষ্টি হয়। তাই চিনি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন।

মগবাজারের মা স্টোরের বিক্রয়কর্মী মোহাম্মদ হাফিজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চিনির সংকট চলছে অন্তত ছয় মাস ধরে। এখনো সমাধান আসেনি। পাইকারদের কাছে চিনি পাওয়া গেলেও অস্বাভাবিক দামে তা কিনতে হয়। বিক্রি করতে গিয়ে আবার হয়রানির শিকার হতে হয়। এর জন্য চিনি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি।’

সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের সবজি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি কিনতে পারছেন না ভোক্তারা। প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে। তাল বেগুন ৮০, সাদা বেগুন ৬০, ঢেঁড়শ ৬০, করলা ৮০, পেঁপে ৫০, কাঁচা মরিচ ৮০-১০০, টমেটো ৪০-৫০, আকারভেদে প্রতি পিস লাউ ৬০-৭০ ও বরবটি ৮০ টাকা করে বিক্রি করছেন ভোক্তারা।

মাছের বাজার ঘুরে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সরবরাহ কম থাকায় মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি কেজি নলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০, পাবদা ৫০০, ছোট রুই ৩৫০-৩৬০, নদীর বড় রুই ৫৫০-৬০০, টেংরা ৪০০-৫০০, সরপুঁটি ২০০, তেলাপিয়া (বড়) ২০০-২২০ টাকায়।