আমাদের সমরেশ মজুমদার

প্রথম কবে সমরেশ মজুমদার (১০ মার্চ ১৯৪২ - ৮ মে ২০২৩) আমাদের বাসায় ঢুকেছিল মনে নাই। প্রথম তার কোন বই পড়েছিলাম তাও মনে করে বলতে পারব না। এখন যতটা বুঝতে পারি–সমরেশ মজুমদার, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এ ত্রয়ীর বই এত সুলভ ছিল আমাদের অপরিণত মফস্বল শহরে যে তাদের বই হাতে পেতে কোনো সমস্যা হতো না। অথচ আমাদের বাসায় তাদের বই ঢোকা ছিল নিষেধ। কারণ এসবের ‘শিল্পগুণ’ ছিল না। নিষেধ ছিলেন হুমায়ূন আহমেদও। পড়ার জন্য বরাদ্দ ছিল বিদেশি ক্ল্যাসিক অনুবাদ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শিশু-কিশোরদের উপযোগী–বই এসব। তারপরও পরিবারের অভিভাবকদের তদারকির ফাঁক গলে কীভাবে সমরেশ বাসায় ঢুকে পড়লেন তা মনে করতে পারলে ভালোই হতো।

এখন মনে করতে গেলে যা একটা আবছা ধারণা তৈরি হয় তা হলো বামপন্থার হাত ধরে আমাদের বাসায় সমরেশ মজুমদারের আগমন ঘটে। একই সময়ে হুমায়ূন আহমেদের অনুপ্রবেশও ঘটে চোরাপথে। সে জন্য দায়ী আমার এক আত্মীয় পরিবার। তাদের মা-মেয়ে-ছেলে সবাই হুমায়ূন আহমেদ পড়তেন। আমিও তাদের প্ররোচনায় হ‌ুমায়ূন পড়তাম লুকিয়ে। তাদের কাছ থেকে সমরেশ মজুমদার এনে পড়তে পারি, নিশ্চিত বলতে পারছি না।

তবে বামধারার খপ্পরে পড়ে সমরেশ মজুমদার পড়া শুরু এটা আসলে আমার কাছে যৌক্তিকভাবে ঠিক মনে হয়। কারণ হুমায়ূন আহমেদ মাঝে মাঝে পড়লেও আমি তত দিনে রাশান সাহিত্যের একজন একনিষ্ঠ পাঠক। ফিওদর দস্তয়েভস্কি, ম্যাক্সিম গোর্কি, নিকোলাই অস্ত্রভস্কি–এদের বই আমার হাতে এসে পড়ে দুই বামপন্থী ফুপাতো ভাই সূত্রে। তারপর ধীরে ধীরে একটি বামপন্থী দলের সঙ্গে সেই স্কুল বয়সেই যুক্ত থাকার কারণে কলকাতা থেকে অনুবাদ হয়ে আসা এসব বই পেতে আমার কোনো সমস্যা হতো না। পড়তেও মজা লাগত। সেই বাম দলের বুক শেলফ থেকে এনে সমরেশ মজুমদার বা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমি পড়া শুরু করাটাকে বেশি যৌক্তিক মনে হয়।

তাদের উপন্যাসেও বাম রাজনীতি ছিল মূল উপজীব্য। বিশেষত সমরেশ মজুমদারের ‘উত্তরাধিকার’, ‘কালবেলা’, ‘কালপুরুষ’ ট্রিলজি বাম রাজনীতিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। তার ‘গর্ভধারিণী’ উপন্যাস আরো বিপ্লবী, নৈরাজ্যিক ঘটনা নিয়ে লেখা। আলোচিত ‘সাতকাহন’ উপন্যাস নারীবাদী হলেও তা আসলে বাম ভাব তাড়িত।

সমরেশ মজুমদারদের পড়ার প্রতি আমার আগ্রহ তৈরি হয়ে থাকতে পারে বাংলাদেশের পত্রিকার সাহিত্য পাতার দৌলতেও। সেখানে কলকাতার লেখকদের বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি হতো। যেমন আমার মনে আছে, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের আত্মজীবনী ছাপা হচ্ছিল বাংলাদেশের কোনো একটা দৈনিকের সাহিত্য পাতায়। আমি সেই থেকে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভক্ত হয়ে যাই। এ ছাড়া শংকরের উপন্যাস কিংবা সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের ‘লোটাকম্বল’র খোঁজও আমি পাই বাংলাদেশের সাহিত্য পাতা থেকে।

যে কারণে আমার মনে হয় দেশি পত্রিকার সাহিত্য পাতা আমাকে উদ্বুদ্ধ করত কলকাতার উপন্যাস পাঠে। কারণ আমাদের অজমফস্বলে সাহিত্য সমৃদ্ধ বই পড়ার দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির দেখা কৈশোরে পাই নাই। এমনিতে তিন গোয়েন্দা বা মাসুদ রানা অর্থাৎ সেবা প্রকাশনীর বই পাওয়া যেত সহজে। সেসব পড়ার জন্য বন্ধুদের অভাবও হতো না। ধীরে ধীরে হুমায়ূন আহমেদও ঢুকতে শুরু করে আমাদের শহরে। তবে ওই সময়ে আমি যা দেখেছি, কলকাতা থেকে আসা উপন্যাস বইয়ের দোকানগুলোতে পাওয়া যায়। বইয়ের দোকান বলতে পাঠ্যবই, কাগজ-কলম বিক্রি হয় এমন দোকান। সেসব দোকানে আবার বিক্রি হতো লাইলি-মজনু, শিরি-ফরহাদ-এমন সব মিথিক্যাল ইসলামি ঘরানার প্রেমের কাহিনি নিয়ে প্রকাশিত বই। যাদের ছাপা, কাগজের মান, প্রুফ সবই ছিল অনুন্নত। একই সময়ে মুরাদ হাসান বা কাসেম বিন আবু বাকারের বইও বিক্রি হতো। সেসবের পাঠকও আমার চেনা-জানা ছিল। বিশেষ করে মীর মোশাররফ হোসেনের ‘বিষাদ সিন্ধু’ বিস্তর বিক্রি হতে দেখেছি আমি। তবে সাহিত্যিক পড়াশোনায় আগ্রহীদের জন্য ছিল কলকাতার উপন্যাস।

সমরেশ মজুমদারের উপন্যাস পড়ে পড়ে সেই শৈশবে আমি কলকাতার শিয়ালদহ, গড়ের মাঠ, ট্রাম–এসব দেখার জন্য উদ্‌গ্রীব হয়ে থাকতাম। ছোটবেলায় কত ভেবেছি কলকাতা যাব। যদিও যাওয়া হয়ে ওঠে নাই। তবে ভাবনার মধ্যে সেসব জায়গা একেবারে জায়গা করে নিয়েছিল। পাশাপাশি ছোটবেলা থেকে ঢাকা যাওয়া-আসা করলেও গুলিস্তান, মতিঝিল এসব জায়গা নিয়ে আমার তেমন টান তৈরি হচ্ছিল না। সাহিত্যে এসব জায়গা পাচ্ছিলাম না। এ ঘাটতি পূরণ করার জন্য আমি ঈদসংখ্যারে দিকে তাকিয়ে থাকতাম। সেখানে ঢাকার লেখকদের পেয়ে ওই তৃষ্ণা কিছুটা মিটত।

আবার বাংলাদেশের সাহিত্য পাতায়, আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গের বা ওপার বাংলার লেখকদের মধ্যে তাদের পূর্ববর্তী অমিয়ভূষণ মজুমদার বা কমলকুমার মজুমদারকে পাওয়াই যায়নি। তাদের নাম শুনতে হয়েছে অনেক পরে এবং লেখালেখিও পড়ার সুযোগ হয়েছে বয়সকালে।

সমরেশ মজুমদার, ১৯৫০। পারিবারিক অ্যালবাম থেকে সংগৃহীত।

যদিও সমরেশ মজুমদার পড়ার প্রভাব অনেক। এটা আমি নিজেকে দিয়েই বুঝতে পারি। পরবর্তীতে সাহিত্যের পাঠক বা সাহিত্য করছেন এমন যাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তাদের মতামতও কাছাকাছি। বাংলাদেশের শিক্ষিত শ্রেণির যে রাজনৈতিক ও নান্দনিক মনন তা গড়ে তোলার পেছনে কলকাতার উপন্যাসের ভূমিকাকে অস্বীকারের উপায় নাই।

ষাটের দশকের উত্তাল বাম রাজনীতির প্রভাব সমরেশ মজুমদারের লেখায় পাওয়া যায়। বৈশ্বিকভাবে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের যে ধারা তার দ্বারা প্রভাবিত হন তিনি। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখায়ও এর প্রবল প্রভাব রয়েছে। নকশালবাড়ি আন্দোলনও তাদের লেখালেখিতে বড় অংশ জুড়ে ছিল। যদিও শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় আলাদা।

পশ্চিম ও পূর্ববঙ্গে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া এ তিন লেখকের গড়ে ওঠার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল আনন্দবাজার পত্রিকার। সাগরময় ঘোষ তার লেখালেখিতে বিষয়গুলো সামনে এনেছিলেন। আনন্দবাজার পত্রিকার যে সেক্যুলার রাজনীতি, একই সঙ্গে সিপিএম’র প্রতি ঝোঁক তা এসব লেখকের উপন্যাসেও উঠে আসে। আবার পরবর্তীতে সুনীল ও সমরেশকে দেখা যায় একেবারে আলাদা ধরনের উপন্যাস লিখতে। যা মূলত কলকাতার পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা। বাজারে টিকে থাকার চেষ্টা এবং সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার চেষ্টা।

আমার সবচেয়ে ভালো লাগে সমরেশ মজুমদারের প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’। এ উপন্যাসে মানব চরিত্রের মাঝে যে ভালোবাসা ও নির্মমতা আছে সেই টানাপোড়েন টের করা যায়। ওই উপন্যাসের গদ্য টান টান এবং ধারালো। এর প্রধান চরিত্রের নাম এখন মনে নাই, তবে অবয়বটা আছে। কলকাতা শহর হয়ে ওঠার পেছনে যে শঠতা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, চতুরতা–ইত্যাদি কাজ করেছে তা পাওয়া যায়। পরবর্তী উপন্যাসগুলোয় সমরেশ সরে এসেছেন দেখতে পাই। ‘উত্তরাধিকার’ থেকে শুরু করে ‘কালপুরুষ’ পর্যন্ত তিন উপন্যাসে তিনি বাম রাজনীতির পতন এবং এর ভেতর থেকে গড়ে ওঠা মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে ধরতে চেয়েছেন।

যদি অনিমেষ ও মাধবীর প্রেমের কথাই ধরি, বাংলাদেশে ষাটের দশকে এমন প্রেম অনেক হয়েছে। পরবর্তী সময়েও হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা প্রেমের জন্য বুদ্ধিদীপ্ত, মানবিক পুরুষ এবং সর্বংসহা নারীর যে অবয়ব গড়ে তুলেছেন সমরেশ এ উপন্যাসে তা বেশ পাওয়া যায় আমাদের সমাজে। মধ্যবিত্তীয় নীতি ও নিষ্ঠাবান প্রেমের সংজ্ঞাই যেন এমন এ বাংলায়। মাধবী একজন একা নারী হিসেবে যে তার ছেলে অর্ককে লালন-পালন করছে, সেখানেও দেখা যায় আর্থিক অনটনের ভেতর মধ্যবিত্তীয় মর্যাদাবোধ, আবেগ, আদর্শ বেশ টনটনে তার।

বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজ নিজেদের ভেতর একটি মানবিক ও সাম্যের ধারণা লালন করে থাকে। তা গড়ে ওঠার পেছনে ষাটের দশকের রাজনীতি ব্যাপক ভূমিকা রাখে। সমরেশ মজুমদারের উপন্যাস সেই চেতনারই প্রচার ঘটায় এবং প্রচুর জনপ্রিয়তা পেতে থাকে নানা কারণে।

ওনার ‘গর্ভধারিণী’ উপন্যাস পড়লে জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারণ অনুমান করা যায়। এ উপন্যাস ‘অ্যাডভেঞ্চারাস’। কয়েকজন ছেলেমেয়ের বাসা থেকে পালিয়ে ‘বিপ্লব’ সাধনের যে চেষ্টা তা নকশাল বাড়ির কমরেডদের অথবা সূর্যসেন-প্রীতিলতার আন্দোলনের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। এই উত্তেজনা পাঠক উপভোগ করে। উত্তরাধিকার সিরিজেও তেমন রাজনৈতিক উত্তেজনা আছে। পাশাপাশি ‘অ্যাডলসেন্স’ বয়সের অনুভূতিগুলো তিনি অনেক অকপটে দেখিয়েছেন যা ওই বয়সের পাঠকদের মনকে আন্দোলিত করে। যে কারণে বাংলা ভাষাভাষী তরুণ পাঠকদেরই মধ্যেই সমরেশের জনপ্রিয়তা বেশি। সাহিত্যে সহজ ভাষায় কৈশোরের যৌন অনুভূতির বিবরণে বলতে গেলে সুনীল বা সমরেশরা তুলনাহীন।

অবশ্য তিনি দেশ রূপান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের চরিত্রগুলো কেন জনপ্রিয় হয়েছে তা বুঝতে পারেননি বলে জানিয়ে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘একটা ছেলে আর একটা মেয়ে এক সঙ্গে পড়ত। তারা পরস্পরের প্রেমে পড়ল। তাদের শারীরিক সম্পর্ক হলো। ছেলেটা মেয়েটার দায়িত্ব নেয়নি। না নিয়ে সে রাজনীতি করছিল। এত দায়িত্বজ্ঞানহীন ছেলে। সে যে মেয়েটির জীবনে এত বড় একটা সর্বনাশ করল তা নিয়ে তার জীবনে কোনো অনুতাপ এল না। তারপর তিন বা চার বছর পর সে যখন জেল থেকে বেরিয়ে জানল, সে যে কাজটি করেছে তা থেকে একটা শিশুর জন্ম হয়েছে তখন সে বলল, আমার উচিত তোমাকে বিয়ে করা। মেয়েটি তাকে রিফিউজ করল। বলল, বিয়ে করার কথা বলে তাকে সে অপমান করেছে। মেয়েটির এই অ্যাডামেন্ট অবস্থানের কারণ আমি খুঁজে পাচ্ছি না। কেন এখন বিয়ের কথা বললে সে অপমানিত হবে। আমি লজিক খোঁজার চেষ্টা করছি, কেন এই উপন্যাসটা লোকে গ্রহণ করেছে?’

একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘একটা সমীক্ষা বলছে, দুজন করে পাঠক একটা বই পড়লে কালবেলা উপন্যাসটা দশ লক্ষ পাঠক পড়েছে। একটা সমীক্ষা বলছে, মাধবীলতা একসেপ্টেড বাই অল রিডার্স, প্রত্যেক পাঠকই মাধবীলতার ফ্যান। জীবনে যাকে একসেপ্ট করতে পারব না, বাসায় যাকে নিয়ে যেতে পারব না, তার ফ্যান কেন হচ্ছি? মানুষ তো ফ্যান হয় তারই যার আইডিয়া সে অনুসরণ করে, যার কাজকর্ম সে রেসপেক্ট করে, যাকে ভালোবাসে। মাধবীলতার কাজকর্ম আমি একসেপ্ট করি না অথচ তার জীবন নিয়ে লেখা উপন্যাস আমি পয়সা খরচ করে কিনি। বলি, আহা কালবেলা আমার প্রিয় উপন্যাস। এটা কি মিথ্যাচার নয়?’

লোক বলতে এখানে সমরেশ যদি পুরুষ বুঝিয়ে থাকেন তাহলে বুঝতে কিছু সমস্যা হবেই, তবে নারীদের প্রসঙ্গ আলাদা। কালবেলার ‘মাধবীলতা’ বা সাতকাহনের ‘দীপাবলি’ নারী চরিত্র নিজেদের ‘ফ্রিডম’ যেভাবে ঘোষণা করল তা আমরা এর আগেও অবশ্য পাই। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসে নারীরা তাদের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিল। তাদের উপন্যাস বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছিল। তবে সমরেশ যা করেছেন তা হলো সামন্তীয় সমাজের পর আধুনিক কালে নারীর প্রেম, মর্যাদাবোধকে ডিল করেছেন। তাদের সাহস দিয়েছেন। এখানে তার জনপ্রিয় হওয়ার প্রাণভোমরা বলে মনে করি। এক লেখক বলেছিলেন, মেয়েরা যার বই পছন্দ করবে, তাকে আর ঠেকিয়ে রাখা যায় না।

যদিও সমরেশ মজুমদার ঢাকা বা বাংলাদেশ নিয়ে লেখালেখি তেমন করেন নাই বলতে গেলে। এখানে তার প্রচুর পাঠক আছে, তার সঙ্গে এখানকার লেখকদের যোগাযোগও আছে, তারপরও বাংলাদেশ নিয়ে তার বিষদ লেখালেখি নাই। বাংলাদেশকে তারা কীভাবে দেখেন এ বিষয়েও তেমন জানা যায় না। বিভিন্ন সময়ে তার মন্তব্যে জানা যায় বাংলাদেশের সাহিত্য বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ধারণা রাখেন না। বাংলাদেশের পটভূমি নিয়ে না লিখলেও এখানে তার এত বিপুল পাঠকপ্রিয়তা কেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

বাংলাদেশের পাঠককে অবশ্য সর্বভুক মনে হয়। এখানে ফিওদর দস্তয়েভস্কি বা অমিয়ভূষণ মজুমদার থেকে শুরু করে সমরেশ কিংবা হ‌ুমায়ূন সব ধরনের পাঠকই আছে।

তাদের ভেতর সমরেশ মজুমদারের গুরুত্ব ভিন্ন। হুমায়ূন আহমেদ পাঠকপ্রিয় হলেও রাজনৈতিক ছিলেন না। সমরেশ ছিলেন রাজনৈতিক। দুই বাংলার পাঠকের কাছে মনের অন্দরে তিনি ঢুকে গেছেন। তাদের রাজনৈতিক মনকে প্রভাবিত করেছেন। সেই সমরেশ মজুমদার আমাদের ছড়ে চলে গেলেন আজ। রেখে গেছেন তার অনেক কীর্তি। কয়েক প্রজন্মের পাঠক তিনি পেয়েছেন। সীমানা ও সময়কে ছাড়িয়ে যাওয়া এমন লেখক বাংলায় আরো আসুক। সমরেশ মজুমদার নিজেও বলেছিলেন, ‘পাঠকের ইচ্ছা আরও সমরেশ মজুমদার হোক’।