নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ২১ বছর আগে চার ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় হওয়া আলোচিত মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২৩ জনের মধ্যে ১৮ জনেরই দণ্ড রহিত করেছে হাইকোর্ট। এ মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে।
এ ছাড়া রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৭ জনের দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১১ জনকে খালাস দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুজন হলেন জহিরুল হক ভূঁইয়া ওরফে জহির মেম্বার ও আব্দুল আহাদ। যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া হলেন মো. ফারুক, মো. খোকন, মো. ডালিম, মো. রোহেল, লিয়াকত আলী, আল আমিন ও রুহুল আমিন। যে ১১ জন খালাস পেয়েছেন সিরাজ উদ্দিন, সাহাব উদ্দিন, মো. হালিম, ইয়াকুব আলী, মো. আমির হোসেন, মো. আবুল কালাম, মো. রফিক মিয়া, গোলাম আজম, আব্দুল হাই, মো. হারুন ও তাইজুদ্দিন। বিচারিক আদালতের রায়ে সর্বোচ্চ দণ্ড পাওয়া ২৩ জনের মধ্যে হাইকোর্টে বিচার চলাকালে আবুল বাশার, ইউনুস আলী ও ইদ্রিস আলী মারা যাওয়ায় তাদের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়।
গতকাল আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জমির উদ্দিন সরকার, এস এম শাহজাহান ও এ কে এম ফজলুল হক খান ফরিদ। তাদের সহযোগিতা করেন মোহাম্মদ আবুল হাসনাত, শেখ মো. শামসুজ্জামান পাপ্পু ও ইশরাত জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পি।
রায় ঘোষণার পর আসামিপক্ষের আইনজীবী শেখ মো. শামসুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি। সাক্ষীদের বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে। এসব যুক্তিতে আদালত এ রায় দিয়েছেন।’
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী চারজনকে একেক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সাক্ষীদের বক্তব্যে এ-সংক্রান্ত সমর্থনমূলক কোনো বক্তব্য আসেনি। এসব বিবেচনায় হাইকোর্ট এ রায় দিয়েছেন। রায়ের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অবহিত করেছি। পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণ হবে।’
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, ২০০২ সালের ১২ মার্চ আড়াইহাজার উপজেলার জালাকান্দি এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে আব্দুল বারেক, বাদল, ফারুক ও কবির হোসেনকে আবুল বাশার ওরফে কাশু চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে একই এলাকার লক্ষ্মীবরদী গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে তাদের কুপিয়ে ও হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। নিহতরা সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। আবুল বাশার আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি। এই হত্যাকাণ্ডের পরদিন আবুল বাশারকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নামে থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত আব্দুল বারেকের বাবা আজগর আলী। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৮ ডিসেম্বর ২৩ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ১৭ মে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) আদালতের বিচারক কামরুন্নাহার রায়ে ২৩ জনের সবাইকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। পরে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। এ ছাড়া আসামিদের পক্ষে আপিল ও জেল আপিল হয়।