প্রায় এক দশক আগে রাজধানীর খিলক্ষেতে কলেজছাত্রী মনিরা পারভীনকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। বিচার শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মাফরোজা পারভীন এ রায় দেন।
সর্বোচ্চ দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন মনিরার স্বামী নাসির হোসেনের ভাই মাসুদ, নাসিরের বড় বোন হাসিনা খাতুন ও তার স্বামী মিলন, মিলনের ভাই দেলোয়ার হোসেন এবং নাসিরের চাচা দ্বীন ইসলাম। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আদালতের বিশেষ কৌঁসুলি রেজাউল করিম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রায়ে নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছে আদালত। দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সবাই জামিনে ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।’
আইনজীবীদের তথ্যমতে, খিলক্ষেত নিকুঞ্জ মডেল কলেজের ছাত্রী ছিলেন মনিরা পারভীন। খিলক্ষেত বড়ুয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান নাসির তাকে ২০১৩ সালের ১৮ জুন পরিবারের অগোচরে বিয়ে করেন। এরপর দুজনে আত্মগোপনে যান। একপর্যায়ে তাদের বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হলে নাসিরের পরিবার মনিরার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। কিন্তু মনিরার দরিদ্র বাবা অটোরিকশাচালক মোস্তফার পক্ষে সেটি সম্ভব ছিল না। ওই বছরের ২১ জুন মনিরাকে নিয়ে নাসির তাদের বাসায় গেলে নাসিরের স্বজনরা মনিরাকে আক্রমণ করে বেধরক মারধর করেন। পরদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মনিরা। হত্যাকান্ডের পর মনিরার বাবা স্থানীয় থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষে আটজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।