র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা পুলিশকে স্মরণ করালেন মোশাররফ

র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আপনারা জনগণের সেবক হওয়ার কথা। কিন্তু জনগণের ওপর গুলি চালাচ্ছেন। আপনারা এ পর্যন্ত যা করেছেন তা জনগণের বিপক্ষে করেছেন। মনে রাখবেন অবৈধ সরকারের অন্যায় হুকুম মানতে গিয়ে র‌্যাবকে স্যাংশন দেওয়া হয়েছে।’

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলের পীরজঙ্গী মাজারের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ আরও বলেন, ‘১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে ১০টি বিভাগের ১৮টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরে জনসমাবেশ হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা, পটুয়াখালী, রাজবাড়ী, নেত্রকোনাসহ বেশ কটি জেলায় বিএনপির সমাবেশে হামলা ও পুলিশের গুলির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই আমরা। আপনারা যারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেবেন ও গুলি চালাবেন আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে তারা কিন্তু আপনাদের ক্ষমা করবে না। আমরা একটি সভা-সমাবেশেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করিনি, বরং শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছি। এর পরও পুলিশ আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে, মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এই অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, ভোটবিহীন সংসদ বিলুপ্ত করে এবং সবার অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানাই। এই দাবি শুধু বিএনপির নয়। এই দাবিতে দেশের মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকতে দেশে গণতন্ত্র হত্যা করে মানুষের ভোটাধিকারও হরণ করেছে। আওয়ামী লীগ ’৭২-৭৫ সালেও এই কাজ করেছিল বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গত ১৪ বছর দেশে দিনের ভোট রাতে কেটেছে। এখনো অলিখিত বাকশাল কায়েম করেছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নেই। দলীয়করণের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। তারা বারবার দেশের গণতন্ত্র হত্যা করেছে। জনগণ এ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব মো. রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, মীর সরফত আলী সপু, কামরুজ্জামান রতন, রকিবুল ইসলাম বকুল, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, মহানগর বিএনপির নবীউল্লাহ নবী, হাবিবুর রশিদ হাবিব, লিটন মাহমুদ, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, কৃষক দলের শহীদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের এস এম জিলানী, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, ওলামা দলের নজরুল ইসলাম তালুকদার, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব প্রমুখ।