নির্বাচন নিয়ে অনেক খেলাই হবে : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এখন অনেক খেলা হচ্ছে, খেলা হবে। উনি (আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের) তো প্রায়ই বলেন খেলা হবে। আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করানোর অনেক চেষ্টা হবে। যারা দেশপ্রেমিক, তারা কখনো ভুল বুঝবেন না। ইস্পাতকঠিন ঐক্য নিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ও গণতন্ত্রের মুক্তি আনতে হবে। ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে ও সাম্যের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য অনঢ় থাকতে হবে। আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায় নিতে সবাইকে সর্বশক্তি দিয়ে নামতে হবে। একাত্তর সালের মতো শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা আমাদেরই করতে হবে।’

গতকাল রবিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাগপার একাংশ আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। শফিউল আলম প্রধানের মৃত্যুর পর সংগঠনটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানের একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান। আরেক অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন খন্দকার লুৎফর রহমান। দুই অংশই সরকারি বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির সঙ্গে আছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কাজটা বাইরে থেকে কেউ করে দেবে না। আমাদেরই করতে হবে। এটা প্রত্যেকের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ সমাজের।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ব্যবস্থাটাকে তারা (সরকার) বেমালুম ধ্বংস করে দিয়েছে। মেয়র ইলেকশন হচ্ছে। বেশিরভাগ সিটি করপোরেশনেই বিরোধী দল কোনো প্রার্থী দিচ্ছে না। সিলেটে আরিফকে (আরিফুল হক চৌধুরী) মানুষ আবারও মেয়র হিসেবে চায়। সেই আরিফ কাল (শনিবার) জনসভা করে বলেছেন, এ নির্বাচন কখনোই গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু হবে না। তারা (সরকার) ব্লু প্রিন্ট করে ফেলেছে। নির্বাচনে যাওয়া অর্থহীন। সব জায়গায়ই একই অবস্থা। পুরো নির্বাচনব্যবস্থা ও প্রতিষ্ঠানটাকেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন একটা টুল। দেখাবে নির্বাচন; আসলে নির্বাচন নির্বাচন খেলা। নির্বাচন কমিশনের কমিশনাররা কথা বলবেন। তারা পুরো নির্বাচনটাকে তাদের মতো করে নিয়ে যাবে। এ কারণে আমরা অত্যন্ত পরিষ্কার, স্পষ্ট ও দৃঢ় উচ্চারণ করে বলেছি, এ সরকার থাকলে কোনো নির্বাচন হবে না। একটা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। ১৪ দলের শরিক দলের মন্ত্রী ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন। তিনি কিছুদিন আগে বলেছেন, পরিকল্পিত নির্বাচন চাই না। মেসেজ ইজ ভেরি ক্লিয়ার। আওয়ামী লীগ পরিকল্পিত নির্বাচন করে। আরেকজন প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, এখানে মন্ত্রীরাই সিন্ডিকেট তৈরি করে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে।’ খুলনার সভায় পুলিশি আক্রমণকে ন্যক্কারজনক মন্তব্য করে ৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ায় নিন্দা জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় এসেছে, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক তার রিপোর্টে বলছে, বাংলাদেশ ইজ চ্যাম্পিয়ন অব ডিফল্ট লোনস। শ্রীলঙ্কাকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। হাজার হাজার কোটি টাকা তারা ঋণ নিয়ে রিশিডিউল করছে বছরের পর বছর। অথচ ছোটখাটো ব্যবসায়ীরা একটা-দুইটা ক্ষেত্রে ডিফল্ট হলেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়ে যাচ্ছে। তাদের কারাগারে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারের অপকর্ম বলে শেষ করা যাবে না। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে যে কমিটমেন্ট করেছিল, তার প্রত্যেকটা ভঙ্গ করেছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে প্রতিশ্রুতি ভাঙার দল, জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর দল, স্বাধীনতার বিরুদ্ধের দল।’

জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপার সাধারণ সম্পাদক এসএম শাহাদাত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। মির্জা ফখরুল লুৎফর রহমানের নেতৃত্বাধীন অংশের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন।