হাসপাতাল দেখে ভয়ে পালান রোগীরা

জ্বরের চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন শিকারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম সরদার। জরুরি বিভাগে বসার পরই তার চোখ পড়ে তার মাথার ওপর হাসপাতাল ভবনের ছাদে বড় একটা ফাটল। পাশে দেয়ালও ফাটল ধরা। ভবনের ভয়াবহ অবস্থা দেখে তিনি ভয় পেয়ে চিকিৎসা না নিয়েই হাসপাতাল ছেড়ে চলে আসেন। 

প্রতিদিন তার মতো শত শত মানুষ বরিশালের উজিরপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালের ফাটল দেখে ভয় পেলেও ওই হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত দিচ্ছেন চিকিৎসা সেবা।

জানা যায়, ৭৪ সালে নির্মিত ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ভবনটির অধিকাংশ এলাকাজুড়ে বেশ কয়েকটি বড় ফাটলের সৃষ্টি হলে কয়েকবার ওপর মহলে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই এখনো চলছে চিকিৎসা সেবা। হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা আতঙ্কের মধ্যেই নিচ্ছেন সেবা।

একাধিক চিকিৎসক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে বাধ্য হয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন, কখন যে ভবনটি ভেঙে পড়ে!

জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো কার্যক্রম চলছে পুরাতন ভবনে।

জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক পলাশ কুমার বড়াল বলেন, যেকোন সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে নিজের জীবন বিপন্ন হতে পারে। রাতে ডিউটি থাকলে বেশি ভয়ে থাকতে হচ্ছে। 

উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শওকত আলী বলেন, হাসপাতালের পুরাতন ভবনটিতে একাধিক ফাটল ধরায় ভবনটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। একাধিকবার লিখিতভাবে বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হলেও কোনো সুফল পাচ্ছি না। এ অবস্থায় চাকরির কারণে বাধ্য হয়েই এমন ভবনে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। 

উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  ভবনে ৮-১০টি ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরিভিত্তিতে ভবনটি সংস্কার করা প্রয়োজন।