বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি নিয়ে বিগত প্রায় দুই মাস ধরে চলছে চরম গ্রুপিং। রাজপথে থেকে শুরু করে বিএনপির ঘরোয়া সমাবেশেও চুলোচুলি-হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। এর জেরে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে চার নেত্রীকে। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমদ স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে তাদের বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
দলটির সূত্র জানায়, মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফাতেমা বাদশা, মহানগর শাখার সহসভাপতি জেসমিনা খানম, আঁখি সুলতানা ও সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ লিটাকে দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল প্রকার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১৯ মে বিকেলে নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি জনসমাবেশের আয়োজন করে। ওই সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সামনেই মনি-জেলী গ্রুপের সঙ্গে ফাতেমা-লিটা গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও চুলোচুলির ঘটনা ঘটে। পরে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর ও সদস্য জাহাঙ্গীর আলম দুলাল মঞ্চ থেকে নেমে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে জনসভায় এ ধরনের বিশৃঙ্খলায় চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারাও বিব্রত বোধ করেন।
দলটির নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই মহানগর মহিলা দলে মনোয়ারা বেগম মনি ও ফাতেমা বাদশার নেতৃত্বাধীন পৃথক দুটি ধারা কাজ করছে। ২০১৯ সালের অক্টোবরে সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছিরের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র মনি দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর নগর মহিলা দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয় ফাতেমা বাদশাকে। কিন্তু বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর ফিরে আবারও তাকে সভাপতি করে কেন্দ্র। এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে মনি বিরোধীদের মধ্যে। এতে স্পষ্টত দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা।
গত ৩০ মার্চ কেন্দ্র থেকে মনোয়ারা বেগম মনিকে সভাপতি ও জেলী চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী দল চট্টগ্রাম মহানগরের নতুন কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। কমিটিতে মনি বিরোধী গ্রুপের নেতারা পদ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন। কমিটি ঘোষণার পরপরই ফাতেমা বাদশাহসহ ১৩ জন কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। কিন্তু তাদের পদত্যাগপত্র ঝুলিয়ে রেখে উল্টো বিদ্রোহ করার কারণে চারজনকে কেন্দ্র থেকে শোকজ করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া এই শোকজের জবাবও দেওয়া হয় হোয়াটসঅ্যাপে। পরে শোকজের জবাব সন্তোষজনক হয়নি উল্লেখ করে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই চার নেত্রীর পদ স্থগিত করে কেন্দ্রীয় কমিটি। কিন্তু এতেও থামানো যায়নি বিদ্রোহীদের। বরং তারা দলীয় কার্যালয়ে এসে পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে থাকে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনি-জেলীর নেতৃত্বাধীন কমিটি নিয়ে নানা সমালোচনা অব্যাহত রাখে।
দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ লিটা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মনি গ্রুপ আমাদের ওপর হামলা করেছে। কিন্তু উল্টো আমরাই বহিষ্কারের চিঠি পেয়েছি। এটা আমাদের ওপর সম্পূর্ণ অবিচার হয়েছে।
মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি এ প্রতিবেদককে বলেন, যারা রাজনীতি করেন তাদের একেক জনের একেক ধরনের আশা থাকে। কিন্তু কমিটি করতে গেলে তো অনেক চিন্তাভাবনা করে করতে হয়। দলীয় সভানেত্রীর মুক্তি আন্দোলন, সামনে জাতীয় নির্বাচন এ সব মাথায় রেখেই কমিটি দিয়েছে কেন্দ্র। এতে পদ না পেয়ে কারও হয়তো মন খারাপ হয়েছে। কিন্তু তারা যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন তা সম্পূর্ণ দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী। তাই কেন্দ্র তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।