নাইকো দুর্নীতির মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ীভাবে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯-এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমের সাক্ষ্য নেন। আদালত তার আংশিক জবানবন্দি গ্রহণ করে পরবর্তী সাক্ষ্য ও জেরার জন্য আগামী ২০ জুন ধার্য করে।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। এই মামলায় অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে করা একটি আবেদন বিচারাধীন রয়েছে উল্লেখ করে সাক্ষ্য পেছানোর আবেদন করেন তিনি। আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করে। গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ২৩ মে (গতকাল) বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল আদালত।
কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের উদ্দেশ্যে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ১৩ হাজার ৭৭৭ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় এ মামলা করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তিন আসামি মৃত্যুবরণ করায় মামলার অপর আসামিরা হলেন সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দীন সিদ্দিকী, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউসুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বন্ধু ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ব্যবসায়ী সেলিম ভূঁইয়া, নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ। সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা যাওয়ায় মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদ- পাওয়া খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি ছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করলে কারাবাস থেকে মুক্তি পান তিনি। এরপর তার মুক্তির মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়।