মন্ত্রী ও সচিবের জামুকার পদে থাকা নিয়ে রুল

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে পদাধিকার বলে জামুকার চেয়ারম্যান ও মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সদস্য পদে নিয়োগ সংক্রান্ত আইনের বিধান কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এক বীর মুক্তিযোদ্ধার করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেয়।

আদেশে রিটকারী বগুড়ার গাবতলীর বীর মুক্তিযোদ্ধা নওয়াব আলী মণ্ডলের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন স্থগিত করে তার ভাতা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। গত সোমবার দেওয়া রুল ও আদেশের বিষয়টি গতকাল গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন সচিব, জামুকার মহাপরিচালকসহ নয় বিবাদীকে (রিট মামলার বিবাদী) চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত।

রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম টিপু। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী অনিক হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ সেলিম আজাদ।

ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম বলেন, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নওয়াব আলী মণ্ডল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ২০০৫ সালে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ দিয়ে গেজেট জারির পর তিনি নিয়মিত ভাতা পেয়ে আসছেন। গত বছরের ১৮ অক্টোবর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৮১তম সভায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার নামে গেজেট বাতিলে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়। এরপর গত ২২ ফেব্রুয়ারি নওয়াব আলীর গেজেট বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এ প্রজ্ঞাপন, ভাতা বন্ধসহ জামুকার চেয়ারম্যান ও সদস্য বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১০ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন নওয়াব আলী।

রিটকারীর আইনজীবী আদালতকে বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২ এর ৫ (১) (খ) ধারা অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও সচিব পদাধিকারবলে যথাক্রমে জামুকার চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, পৃথক বিধিবদ্ধ এই সংস্থার অন্যতম প্রধান কাজ হলো নতুন মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত এবং গেজেটভুক্ত কোনো মুক্তিযোদ্ধা তদন্তের পর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন প্রমাণিত হলে তার গেজেট বাতিলে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করবে।

আইনজীবী আরও বলেন, যেহেতু মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এবং সচিব একই সঙ্গে জামুকার সর্বোচ্চ পদে আছেন ফলে তারা নির্বাহী প্রধান হিসেবে যে সুপারিশ করবেন সেটাই মন্ত্রণালয়ে গৃহীত হয়। অন্যদিকে কোনো মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলে জামুকা যখন মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করে মন্ত্রণালয় তখন গেজেট বাতিলের আগে অভিযোগ খ-ানো বা শুনানির সুযোগ না দিয়ে গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন দেয়। জামুকা আইনের ৮ ধারা অনুসারে একদিকে জামুকার সকল নির্বাহী ক্ষমতা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর হাতে। আবার মন্ত্রণালয়েরও প্রধান নির্বাহী তিনি। ফলে জামুকা ও মন্ত্রণালয় একই প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ বিষয়টা আইনের একটি বড় অসংগতি। এটা ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী।’