ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছুরিকাঘাতে খুন ছাত্রলীগ নেতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকরাম আহমেদ (৩০)। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রাস্তা অবরোধ করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ইকরাম আহমেদ সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও ক্লিনিক ব্যবসায়ী মাসুদ মিয়ার ছেলে। তারা শহরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া টাউয়ারে বাস করলেও তাদের বাড়ি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের তেরকান্দা গ্রামে।

এদিকে ঘটনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছুরিকাঘাতকারী রায়হানকে গ্রেপ্তার করেছে।

ছাত্রলীগ, পুলিশ ও ছাত্রলীগ নেতা ইকরামের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ইকরাম আহমেদ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রিদওয়ান আনসারী রিমুর অনুসারী হিসেবে তার বাড়িতেই আড্ডা দিতেন-সময় কাটাতেন। সেখানে থাকতেন রিমুর মামাতো ভাই রায়হান (২০)। গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে ইকরাম ও রায়হানের মধ্যে বাগ্বিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে রায়হান তার সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে ইকরামের বুকের বাম পাশে আঘাত করেন। এ সময় ইকরাম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে উপস্থিত বন্ধুরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিপুলসংখ্যক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী জেলা ছাত্রলীগ সিনিয়র সহসভাপতি সুজন দত্ত, সহসভাপতি ওবায়দুল হক বাবু, রিয়াদ সরকার, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ জাহিন রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন আফ্রিদি, পৌর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ মনজুরে মাওলা ফারানীর নেতৃত্বে জেলা সদরের প্রধান সড়ক সদর হাসপাতাল এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রিদওয়ান আনসারী রিমু সাংবাদিকদের জানান, মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে তর্কের সময় আমার মামাতো ভাই রায়হান ইকরামকে ছুরিকাঘাত করে।

ছাত্রলীগ নেতা ইকরামের কর্মী-সমর্থকরা তার লাশ হাসপাতাল থেকে শহরের নতুন সিনেমা রোডের ব্রাহ্মণবাড়িয়া টাউয়ারে নিয়ে গেলে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা আমেনা সুলতানা পাগলের মতো আচরণ করছেন। বড়বোন ডা. নাসরিন সুলতানা, ছোটবোন ফারজানা সুলতানার কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। বাবা মাসুদ মিয়া একমাত্র পুত্রের মৃত্যুতে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। বাসার ভেতরে কর্মী-সমর্থকরা হাউ-মাউ করে চিৎকার করছেন।

ছাত্রলীগ নেতা ইকরামের বাবা মাসুদ মিয়া বলেন, আমার ছেলে খুন হয়েছে এটাই সত্যি কথা। কারা খুন করেছে কেন খুন করেছে তা পুলিশ বের করবে।

বড়বোন ডা. নাসরিন সুলতানা বলেন, আমার ভাইকে যারা খুন করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হউক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানভীর চৌধুরী বলেন, বুকের বাম পাশে আঘাত করা হয়। হাসপাতালে আনার পর আমরা তাকে মৃত দেখতে পাই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ মূল ঘাতককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।