নজরুলজয়ন্তী উদযাপিত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৪তম জন্মবার্ষিকী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। এ বছর জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘অগ্নিবীণার শতবর্ষ : বঙ্গবন্ধুর চেতনায় শানিতরূপ।’ জাতীয়ভাবে এবার জন্মবার্ষিকীর আয়োজন করা হয়েছে কবির স্মৃতিধন্য ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুরে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়। তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে পারলে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। খণ্ডিত নজরুল দেখার চেষ্টা করেছে কেউ কেউ। কবি নিজেকে সবার কবি হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি আরও বলেন, কাজী রফিকউল্লাহ দারোগা যদি কবিকে ত্রিশালের কাজীর সিমলায় নিয়ে না আসতেন তাহলে নজরুল কবি হিসেবে পরিশীলিত হতেন না। দারোগা সাহেব স্কুলে ভর্তি করেন। ওই অল্প সময়ের শিক্ষা তাকে আলোকিত করেছিলেন। তিনি যদি পরিপূর্ণ জীবন পেতেন তাহলে কবি আমাদের আরও অনেক কিছু দিয়ে যেতে পারতেন। বিদ্রোহ শুধু আমাদের রণসংগীত নয়, তিনি সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কর্মকে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন। তাকে যেন আমরা খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন না করি।

এ ছাড়া ঢাকাসহ জাতীয় কবির স্মৃতিবিজড়িত কুমিল্লার দৌলতপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় প্রশাসন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে চায়। এই নির্বাচনে যারা বাধা দেবে তাদের অবশ্যই প্রতিহত করা হবে।

এ সময় ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, নজরুল তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’, যাকে উৎসর্গ করেছেন, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই বারীন্দ্র কুমার ঘোষ ছিলেন তৎকালীন সমগ্র ভারত ও বাংলার মহানায়ক। আমরা ধারণা, যদি তিনি সুস্থ থাকতেন এবং তার (বঙ্গবন্ধু) বয়স সেই রকম হতো, যা হয়েছিল চল্লিশের দশকে, তিনি সেই সময়ে যে অসামান্য অবদান রেখেছেন, কবি নজরুল হয়তো এই কাব্যগ্রন্থটি বঙ্গবন্ধুর নামেই উৎসর্গ করতেন। কেননা একটি জাতির রাষ্ট্র সৃষ্টির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু যে অবদান রেখেছেন, কাজী নজরুল তার এই কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গের জন্য সব বৈশিষ্ট্য বঙ্গবন্ধুর মধ্যে খুঁজে পেতেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ জাতীয় কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। তিনি বলেন, তাকে জাতীয় কবি বলা হলেও আমরা তাকে সব পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। পশ্চিমবঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনটি ছুটি ঘোষণা করা হয়।