মানবদেহে পরীক্ষার অনুমোদন পেল ব্রেইন-চিপ

প্রথমবারের মতো মানব শরীরে পরীক্ষার অনুমোদন পেল ইলন মাস্কের মালিকানাধীন নিউরালিংকের তৈরি ব্রেইন-চিপ। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সম্প্রতি এ অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে নিউরালিংক। যদিও এফডিএর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার এক টুইটে নিউরালিংক বলেছে, এফডিএর সঙ্গে নিউরালিংক দলের ঘনিষ্ঠভাবে অবিশ্বাস্য কাজের ফলাফল হলো এই অনুমোদন। এই সিদ্ধান্ত এমন এক গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ, যা তাদের প্রযুক্তিকে একদিন অসংখ্য মানুষকে সহায়তার সুযোগ করে দেবে।

বিবিসি বলছে, কোম্পানিটি কম্পিউটারের সঙ্গে মস্তিষ্কের সংযোগ ঘটিয়ে মানুষের দৃষ্টিশক্তি ও শরীরের গতিবিধি পুনরুদ্ধারে সহায়তা দিতে চায়। পক্ষাঘাত ও অন্ধত্বের মতো শারীরিক সীমাবদ্ধতার চিকিৎসা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কম্পিউটার ও মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তার উদ্দেশ্যে এসব মাইক্রোচিপ ব্যবহারের লক্ষ্য স্থির করেছে নিউরালিংক।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, এর আগে বানরের ওপর পরীক্ষা চালানো এসব চিপ এমনভাবে নকশা করা, যাতে এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে উৎপাদিত বিভিন্ন সংকেত ব্যাখ্যা করতে পারার পাশাপাশি ব্লুু-টুথের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিভাইসে সেই সব তথ্য পাঠানো যায়।

কোম্পানি বলছে, তারা এখনই অংশগ্রহণকারী বাছাইয়ের পরিকল্পনা করছে না। পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের বাছাই পরিকল্পনা সম্পর্কে শিগগিরই তুলনামূলক বেশি তথ্য প্রকাশ করা হবে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘সুরক্ষা, প্রবেশাধিকার ও নির্ভরযোগ্যতা’ তিনটি বিষয়কেই প্রকৌশলী কাজে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে পরীক্ষায়।

এর আগে মাস্কের এই পরীক্ষা পরিচালনার ‘আকাক্সক্ষা’ ব্যর্থ হয়। নিরাপত্তার কারণে নিউরালিংকের এফডিএ অনুমোদনের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয় বলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান কর্মীদের উদ্ধৃতি দিয়ে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউরালিংকের মস্তিষ্কে চিপ বসানোর ব্যবস্থা বাজারে চালু হওয়ার আগে এর বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে ব্যাপকহারে এর পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তারা বলছেন, ২০১৬ সালে মাস্কের সহ-প্রতিষ্ঠা করা কোম্পানিটি নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি নিয়ে ক্রমাগত ভুল অনুমান প্রকাশ করে আসছে।

এর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ২০২০ সালনাগাদ মানুষের মস্তিষ্কে চিপ বসানোর কার্যক্রম শুরু করা। এর এক বছর আগে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কোম্পানিটি। পরে কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা পাল্টে পেছানো হয় ২০২২ সাল পর্যন্ত।

গত বছরের ডিসেম্বরে কোম্পানির ব্যবসায় আরেকটি বড় ধাক্কা লাগে যখন নিজস্ব কার্যক্রমে ‘প্রাণী অধিকার ও কল্যাণের’ প্রশ্নে কোম্পানিটি তদন্তের মুখে পড়ে। তবে সম্প্রতি সুইস গবেষকদের মাধ্যমে মস্তিষ্কে চিপ বসানোসংশ্লিষ্ট একই ধরনের অগ্রগতির খবর উঠে আসার পরপরই কোম্পানিটির কাছ থেকে এফডিএর অনুমোদনের এই ঘোষণা এলো।