প্রতীক পেয়েই প্রচারে সরব প্রার্থীরা

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) এবং খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের মধ্যে গতকাল শুক্রবার সকালে হয়েছে প্রতীক বরাদ্দ। আর এর পরপরই প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে সরগরম হয়ে উঠেছে এই দুই নগরী। এরই মধ্যে মেয়র প্রার্থীদের ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরী দুটির প্রধান প্রধান সড়ক। সেই সঙ্গে অলিগলিতে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ব্যানার-পোস্টার লাগাতে শুরু করেছে।

বিসিসি নির্বাচনে সাতজন মেয়র প্রার্থী এবং ৩০টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিরল পদে ১১৬ জনের মধ্যে ১১৫ জনসহ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৪২ জন প্রার্থীদের মধ্যে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ূন কবীর। নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডে একজন প্রার্থী হওয়ায় কোনো প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর নথুল্লাবাদ আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে নির্বাচনী নিয়মকানুন মেনে প্রচার-প্রচারণা শুরু করার ঘোষণা দেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা।

এ সময় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতকে (নৌকা), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন তাপসকে (লাঙ্গল), জাকের পার্টির মনোনীত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাচ্চুকে (গোলাপ ফুল) এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীমকে (হাতপাখা) প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আলী হোসেন হাওলাদার পেয়েছেন (হরিণ), বিএনপি নেতা আহসান হাবিব কামাল পুত্র কামরুল আহসান রুপম পেয়েছেন (টেবিল ঘড়ি) এবং সাংবাদিক আসাদুজ্জামান পেয়েছেন হাতি প্রতীক। প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনে বিজয়ের প্রত্যাশা এবং আধুনিক বরিশাল গড়ার অঙ্গীকার করে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করবেন বলে জানান প্রার্থীরা। আগামী ১২ জুন বিসিসি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা।

কেসিসিতে প্রতীক পেয়েই প্রচারণা শুরু : কেসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন গতকাল সকালে প্রথমেই নৌকা প্রতীক তুলে দেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী সদ্য বিদায়ী মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের হাতে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি (জাপা) মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধুকে লাঙ্গল, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল আউয়ালকে হাতপাখা ও জাকের পার্টির প্রার্থী এস এম সাব্বির হোসেনকে গোলাপ ফুল প্রতীক বরাদ্দ দেন। প্রতীক পেয়েই প্রথমে প্রচারণায় নামেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। পরে সব প্রার্থী প্রচারণায় নামেন। এই নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন, সাধারণ ৩১টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১৫৬ জন ও সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৮ মে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে মেয়র পদের চারজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদের ১২ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তবে আপিল করে মেয়র পদের একজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদের চারজন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদের দুজন মনোনয়নপত্র ফিরে পান। ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে একক কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে একমাত্র এসএম খুরশিদ আহম্মেদ মনোনয়ন জমা দেন। তিনি ২০১৩ ও ২০১৮ সালের সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হন। এ ছাড়া নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে একক প্রার্থী রয়েছেন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন। তিনি ২৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে এর আগে দুবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। দলের সিদ্ধান্তে তিনি ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন। এ ওয়ার্ডে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বর্তমান কাউন্সিলর ও বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি শমসের আলী মিন্টু। যাচাই-বাছাইয়ে ঋণখেলাপী অভিযোগে এই কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। পরে আপিলেও হেরে যান। তবে তিনি উচ্চ আদালতে ফের আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। দুই একক প্রার্থী নগর আওয়ামী লীগের নেতা।