ঘুরতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী

যশোর সদর উপজেলায় প্রেমিকের সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক তরুণী (১৯)। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন তিনি। মামলার এজাহারে নাম থাকা তিনজনকে গতকাল শুক্রবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এদিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিশোরগঞ্জের এক তরুণীকে চট্টগ্রাম শহরে এনে ধর্ষণের অভিযোগে গাজী মো. হানিফ (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মচারী। গত বৃহস্পতিবার রাতে বন্দর থানা এলাকার নগরের মধ্যম গোসাইলডাঙ্গা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যশোর কোতোয়ালি থানায় তরুণীর করা মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে এক যুবকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ওই যুবক তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানোর পর একটি ডাঁটাক্ষেতে নিয়ে সন্ধ্যা থেকে রাতভর ওই যুবকসহ চারজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে। পরে এলাকাবাসী ও পুলিশের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে যশোর কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) একেএম শফিকুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তরুণীর করা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলোÑ জগহাটি গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ সাকিব (২৮), একই গ্রামের সাজুল ইসলামের ছেলে বাচ্চু (৩২) ও কমলাপুর গ্রামের শরিফুল ইসলামের ছেলে মহাব্বত।

ধর্ষণ মামলায় বন্দর কর্মচারী গ্রেপ্তার : ধর্ষণ মামলায় চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার হানিফের বাড়ি বরগুনাতে। থাকেন চট্টগ্রাম নগরীর মধ্যম গোসাইলডাঙ্গা এলাকায়। বন্দর থানার ওসি সঞ্জয় কুমার সিনহা জানান, দুই মাস আগে মোবাইল ফোনে কিশোরগঞ্জের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় হানিফের। আলাপের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হানিফ তরুণীর কাছে নিজের বয়স ও নাম গোপন করেন। বয়স ৫১ হলেও তরুণীকে বলেন ৩০। নিজের নাম বলেন নাছির। হানিফ চট্টগ্রাম বন্দরের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের একপর্যায়ে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের জন্য চট্টগ্রামে আসতে তরুণীকে বিকাশে এক হাজার টাকাও পাঠান হানিফ। পরে গত বুধবার ভোরে বাসে ওই তরুণী ইপিজেড থানাধীন নারকেলতলা এলাকায় আসেন। হানিফ সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান। কিন্তু নিজের মিথ্যা পরিচয়ও লুকিয়ে বলেÑ নাছির অফিসে থাকায় তরুণীকে নেওয়ার জন্য তাকে পাঠানো হয়েছে। চেহারা চেনা না থাকায় তরুণী বুঝতে পারেননি। পরে তাকে মধ্যম গোসাইলডাঙ্গায় বাসায় নিয়ে জিম্মি করে ধর্ষণ করেন। ছাড়া পেয়ে গত বৃহস্পতিবার থানায় গিয়ে হানিফের বিরুদ্ধে মামলা করেন তরুণী। এরপর হানিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শারীরিক পরীক্ষার জন্য ধর্ষণের শিকার তরুণীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হানিফকে গতকাল শুক্রবার আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি সঞ্জয়।