দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন এ শঙ্কায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, তার স্ত্রী বুশরা বিবি এবং ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফের সাবেক-বর্তমান কয়েক ডজন নেতার নাম নো ফ্লাই লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে পাকিস্তান সরকার। তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা উপযুক্ত কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না।
পাকিস্তানি গণমাধ্যম ট্রিবিউন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তালিকাটি বিভিন্ন বন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর স্বরাষ্ট্র ও আইনবিষয়ক বিশেষ সহকারী (এসএপিএম) আতাউল্লাহ তারার ইমরান খান ও তার স্ত্রীর নাম নো ফ্লাই লিস্টে যুক্ত করার কথা নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া তালিকায় কাসিম সুরি, মুরাদ সাঈদ, হাম্মাদ আজহার, ইয়াসমিন রশিদ ও আসলাম ইকবালের মতো পিটিআইয়ের প্রভাবশালী নেতাদের নামও আছে। আছে সদ্যই দলটি ছাড়া আসাদ উমর ও মালিকা বোখারির মতো রাজনীতিকরাও। সাধারণত বিপজ্জনক লোকজনের চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ এবং দেশের বাইরে যাওয়া ঠেকাতে তাদের নাম নো ফ্লাই লিস্টে দেওয়া হয়। তবে পাকিস্তানের প্রায় সব সরকারই তাদের বিরোধীদের নাম নিয়মিতই এ তালিকায় ঢুকিয়েছে। একের পর এক মামলা, গ্রেপ্তারের পাশাপাশি বিদেশযাত্রায় এ নিষেধাজ্ঞা বিরোধী নেতাদের ওপর চাপ বাড়াতে কাজে লাগাচ্ছে।
যদিও ইমরান বারবারই বলেছেন, তিনি দেশ ছাড়বে না। পিটিআইয়ের নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফররুখ হাবিব বলেছেন, ইমরান খান কোথাও যাবেন না, তাই তার নাম এ তালিকায় রাখা অর্থহীন। তিনি বলেন, ইমরান রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।
এদিকে গত বুধবার রাতে দেওয়া এক ভার্চুয়াল বক্তব্যে ইমরান খান বলেছেন, দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে তিনি সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, আমাকে কিছু আভাস দিন, আমি এক দিনের মধ্যে কমিটি ঘোষণা করে দেব। তিনি বলেন, তার গঠন করা কমিটিকে যদি সেনাবাহিনী বোঝাতে পারে যে, রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে তিনি সরে গেলে দেশের কীভাবে ভালো হবে, তবে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াবেন।
ইমরান তার বক্তব্যে বলেন, সেনাবাহিনী যদি তার কমিটিকে বোঝাতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি শেষ বল পর্যন্ত ব্যাট করে যাবেন। তিনি দেশের সাবেক সেনাপ্রধানকে সতর্ক করে বলেন, রাজনীতি থেকে আমাকে সরাতে দেশ ধ্বংসের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াবেন না।