একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার সন্ত্রাসী গ্রুপের মাধ্যমে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক দুই ওয়ার্ড কাউন্সিলর। জেল থেকে বের হওয়ার পর তারা এখনো ওই সন্ত্রাসী গ্রুপের হুমকির মুখে রয়েছেন। এ অবস্থায় তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলাকারী ওই বিশেষ মহলের বিচারের দাবি জানিয়েছেন। গতকাল রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব অভিযোগ করেন। সাবেক দুই কাউন্সিলর হলেন ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতা হাবিবুর রহমান মিজান ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও যুবলীগের নেতা তারেকুজ্জামান রাজীব।
ডিএনসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সাবেক যুবলীগ নেতা তারেকুজ্জামান রাজীব বলেন, ‘একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির ভাতিজাকে কাউন্সিলর বানাতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে কারণে গত নির্বাচনে আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারিনি। ওই ব্যক্তির ভাতিজা আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এ ঘটনার নায়কদের মুখোশ উন্মোচন করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে আটকে রেখে প্রভাবশালী ওই ব্যক্তি ও ঢাকার সন্ত্রাসী চক্র তোফায়েল আহমেদ জোসেফ-হারিস-আনিস তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করেছেন। খুব অল্প বয়সে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে আমি যখন সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম; তখন ওই বিশেষ মহল আমার সফলতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ২০১৯ সালের অক্টোবরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে আমাকে গ্রেপ্তার করান।’
রাজিব বলেন, ‘আমাকে আটকের পর রাতভর আমার বাসা ও অফিসে তল্লাশি অভিযান চলেছিল। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তাদের মতো করে সন্ধান করেছে। অভিযান শেষে গণমাধ্যমকে তারা জানিয়েছিল, তারা কোনো ক্যাসিনো সম্পৃক্ততা পায়নি। অথচ সে সময়ের মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
অঢেল সম্পদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিদেশে আমার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য-প্রমাণও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে পায়নি। আর সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তো প্রশ্নই আসে না; ২০১৯ সালে গ্রেপ্তারের আগে আমার নামে থানায় কোনো জিডি পর্যন্ত ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিনা অপরাধে তিন বছরের বেশি সময় আমাকে জেলে থাকতে হয়েছে। আমার জীবন থেকে তিনটি বছর কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এখন আমি ও আমার পরিবার ওই সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর হুমকির মুখে রয়েছি। আমার প্রাণনাশের শঙ্কা রয়েছে; এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অমানবিক ঘটনার বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চাই।’
সংবাদ সম্মেলনে দুই সাবেক কাউন্সিলর অভিযোগ করেন, এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ঢাকার সন্ত্রাসী চক্র তোফায়েল আহমেদ ওরফে জোসেফ, হারিস আহমেদ ও আনিস আহমেদ। যদিও পলাতক থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আসিফ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মিজান বলেন, ‘২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অথচ আমি এ ধরনের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে কখনই জড়িত ছিলাম না। এর আগে আমার নামে থানায় কোনো মামলাও ছিল না। সাজানো ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে আমাকে মামলার আসামি করা হয়। সে সময় আমার নামও বদলে দিয়ে মিজানুর রহমান ওরফে পাগলা মিজান হিসেবে প্রচার করা হয়। অভিযানের নামে আমার বাসা থেকে মূল্যবান দলিলপত্র, টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায় অভিযানে আসা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা; যা মামলার জব্দ তালিকায় দেখানো হয়নি। সেসব আমাকে ফেরতও দেওয়া হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আমার ভাইয়ের খুনি সন্ত্রাসী জোসেফ গং। তাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছিল; অথচ রাষ্ট্রপতির আদেশে তারা ক্ষমা পেয়ে যায়। ভালো হয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুক্তি পেলেও জেল থেকে বের হয়ে তার সহযোগিতায় আমার ওপর নৃশংসতা চালায়। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিকার চাই।’